‘দিল্লি কা লাড্ডু, জো খায়ে ওহ ভি পস্তায়ে, জো না খায়ে ওহ ভি পস্তায়ে!’ বিখ্যাত এই প্রবাদ শোনেননি এমন মানুষ কমই আছেন। এর আক্ষরিক অর্থ-দিল্লির লাড্ডু যে খেয়েছে সেও পস্তিয়েছে, আর যে খায়নি সেও পস্তিয়েছে। তবে এই পস্তানো বা আফসোস কি কেবলই স্বাদের জন্য, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো দার্শনিক রহস্য?দিল্লির সরু অলিগলিতে ঘুরলে এখনো ঘিয়ে ভাজা বেসন আর এলাচির সুবাস নাকে ভেসে আসে। বিশেষ করে পুরোনো দিল্লির চাঁদনি চকের কথা না বললেই নয়। মুঘল আমল থেকে শুরু করে আজ অবধি দিল্লির মিষ্টান্ন ভাণ্ডারগুলো এই বিশেষ লাড্ডুর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। সোনালি রঙের দানাদার এই লাড্ডুর উপরিভাগে কাজু, পেস্তা আর কিশমিশের সাজ যেন রাজকীয় আভিজাত্যের প্রতীক।কিন্তু কেন এই পস্তানোর গল্প? ইতিহাসবিদ ও ভোজনরসিকরা মনে করেন, এটি আসলে মানুষের অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষার এক রূপক। দিল্লির এই লাড্ডু দেখতে যতটা মোহনীয়, স্বাদেও ততটা অতুলনীয়। খাওয়ার পর মনে হয়, ‘ইশ! কেন আরেকটু বেশি খেলাম না!’আবার না খেলে আফসোস থেকে যায় এই ভেবে যে, দিল্লির বিখ্যাত জিনিসটাই অধরা থেকে গেল। মূলত ক্ষমতার মোহ কিংবা বিয়ের স্বাদ বোঝাতেও অনেকে এই প্রবাদের আশ্রয় নেন।দিল্লির এই লাড্ডু কেবল একটি মিষ্টান্ন নয়, এটি একটি সংস্কৃতি। খাঁটি গাওয়া ঘি, যাতা ভাঙা বেসন আর চিনির সিরায় ডুবিয়ে যখন হাতের তালুতে গোল আকার দেওয়া হয়, তখন তাতে মিশে থাকে শত বছরের কারিগরি জ্ঞান। দোকানভেদে এই লাড্ডুর স্বাদে ভিন্নতা থাকলেও তার আবেদনের কোনো ঘাটতি নেই।অনেকে মনে করেন, দিল্লির বিখ্যাত শাহী লাড্ডুর ওপর সোনার তবক দেওয়া থাকতো, যা ছিল আভিজাত্যের চরম সীমা। সেই আভিজাত্য ছুঁতে না পারার আফসোস থেকেই হয়তো এই প্রবাদের জন্ম। আবার আধুনিক ব্যাখ্যায় বলা হয়, দিল্লির যানজট আর কোলাহল ঠেলে এই লাড্ডু সংগ্রহ করতে গিয়ে যে কষ্ট হয়, তাতে খাওয়ার পর মনে হয়-এত কষ্ট না করলেও চলতো! কিন্তু স্বাদের তীব্রতায় সেই বিরক্তি নিমেষেই মুছে যায়।তাই দিল্লি ভ্রমণে গিয়ে আপনি এই লাড্ডু খাবেন কি খাবেন না, সেই দোটানা আপনার সঙ্গী হবেই। তবে মনে রাখবেন, পস্তাতে যখন হবেই, তখন সেই অমৃত স্বাদ নিয়েই পস্তানো বোধহয় বুদ্ধিমানের কাজ!
রাজনীতি
দিল্লি কা লাড্ডু, খেলে পস্তাবেন নাকি না খেলে?

শেয়ার করুন







