দোকান বরাদ্দ ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র চত্বরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অধীনে পরিচালিত হতো। নজরুল হল নির্মাণের পর থেকে হলটির শিক্ষার্থীরা নিজেদের হলের সামনে থাকা এসব দোকানের বরাদ্দ ও মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় নয় মাস ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
নজরুল হল সংসদের ভিপি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “এটি প্রায় নয় মাসের পুরোনো বিষয়। আমরা দুই দফায় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। গত ১ সেপ্টেম্বর ৩৫০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি দিয়ে সাত দিনের মধ্যে দুই হলকে নিয়ে বসার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ১৪ দিন পার হলেও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো আশ্বাস পাইনি।”
তিনি বলেন, “পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দোকানগুলোর সামনে অবস্থান নিই। একপর্যায়ে রবীন্দ্র হলের শিক্ষার্থীরা এসে উসকানিমূলক আচরণ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। আজকের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করছি।”
অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ইমন বলেন, “নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক বছর ধরে দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাদের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। এসব দোকানের আয় আমাদের হলের বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়।”
সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলাম। একপর্যায়ে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে আমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা করি। এতে আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।”
সংঘর্ষের পর আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, “এখন পর্যন্ত ১৫ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
এ বিষয়ে নজরুল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, “প্রশাসনের আমন্ত্রণে দুই হলের ওয়ার্ডেন, হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা তাদের হলের দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বসার কথা থাকলেও সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।”
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দুই হলের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দীর্ঘদিনের দোকান বরাদ্দ ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানে এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন দুই হলের শিক্ষার্থীরা।






