মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সাটুরিয়া ইউনিয়নের কমলপুর থেকে কৈজুরী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে। কাদায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি পায়ে হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কমলপুর-কৈজুরী সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গর্তে পরিণত হয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কোথাও কোথাও রাস্তার মাটি ধসে পড়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। অনেক জায়গায় কাদা জমে পুরো সড়ক ঢেকে গেছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। 

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কৈজুরী গ্রামের জন্য এটি প্রধান যোগাযোগ পথ। রাস্তার দুই প্রান্ত পাকা হলেও মাঝখানের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ এখনও কাঁচা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বহুদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। দাবি আদায়ে কয়েক দফা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয়নি। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং রোগী পরিবহনের জন্য এই সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন, “প্রতি বছরই শুনি রাস্তা হবে, কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি দেখি না। বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।”

রিকশাচালক রহিম উদ্দিন জানান, “এই সময়ে এই রাস্তা দিয়ে যাত্রী নেওয়া খুবই কষ্টকর। মাঝপথে গাড়ি আটকে যায় কাদায়, এতে আয়ও কমে যাচ্ছে।”

শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেনের ভাষ্য, “বৃষ্টির দিনে স্কুলে যেতে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। কাদা-পানি পার হতে গিয়ে প্রায়ই পিছলে পড়ার ভয় থাকে।”

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মাহবুব হোসেন বলেন, “সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে। জরুরি সময়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না। অনেক সময় রোগীকে কাঁধে বা খাটিয়ায় করে প্রধান সড়কে নিতে হয়। এতে ঝুঁকি বাড়ছে। রাস্তার এমন অবস্থার কারণে সামাজিকভাবেও প্রভাব পড়ছে। অনেকে এলাকায় আসতে অনীহা প্রকাশ করেন।”

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ বলেন, “সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।”