চলতি বর্ষা মৌসুমে উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি দফায় দফায় বাড়া-কমার মধ্যে থাকায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে একটি জামে মসজিদ ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বহু পরিবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে নদী অনেক বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ শেষ সম্বলটুকু নিয়ে কোথায় যাবেন, সেই দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ দুর্গম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবহেলিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দুর্যোগের সময় কিছু ত্রাণ সহায়তা মিললেও নদী ভাঙন রোধে কোনো টেকসই ব‌্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ওই এলাকার বাসিন্দা ছবুর আলী (৬৮) বলেন, আমার বাড়ি ১৭ বার নদীতে ভেঙেছে। ত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু ভাঙন ঠেকাতে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা পাইনি। এভাবে আর কতদিন?

দুই সপ্তাহে তিস্তায় বিলীন ২৫ বাড়ি, দিশেহারা শতাধিক পরিবার

শরিফুল ইসলাম নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা ত্রাণ চাই না, এমন ব্যবস্থা চাই যাতে আর ঘরবাড়ি হারাতে না হয়।

রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে তার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই কম। গত সোমবার মাত্র ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার এবং সাত মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রা‌কিবুল হাসান বলেন, পশ্চিম চর বিদ্যানন্দে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে/জেআইএম