প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “বিশ্ব এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি মিলেমিশে চতুর্থ এবং পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ভিত্তি রচনা করেছে। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শুধু একটি শিল্পই নয়, এটি আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি।” 

শনিবার (২৫ জুলাই) তেজগাঁওয়ে নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং বায়োটেকনোলোজি, ইলেক্ট্রনিক্স, এআই এন্ড রোবোটিক্স সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‍“প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার এই সময়ে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে কম্পিউটার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কৃষি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আধুনিক কল কারখানা কিংবা মহাকাশের স্যাটেলাইট- প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।”

তিনি বলেন, “বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বাজার বর্তমানে দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং, ইলেকট্রিক ভেহিকল, স্মার্ট ডিভাইস, 5G এবং 6G যোগাযোগব্যবস্থা, ডাটা সেন্টার এবং অটোমেশন প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে চিপের চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সুতরাং, নিজেদের মেধা এবং উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে বাংলাদেশের সামনেও সম্মানজনক অবস্থান তৈরির এখনই সময়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন. “২০৩০ সালের দিকে বিশ্বে গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাবে সংশ্লিষ্টরা এমনটিই ধারণা করেছিলেন। তবে, ২০২৬ সালের মধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে। সুতরাং, এই মার্কেটে প্রবেশ করার জন্য বাংলাদেশের সামনেও এক অপারসুযোগ এবং সম্ভাবনা বিদ্যমান। আমি আশা করি, ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প থেকে রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশ সেটি পূরণ করতে সক্ষম হবে।”

বাংলাদেশের তিন হাজারেরও বেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী বর্তমানে আমেরিকা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতার প্রমাণ রেখে চলেছেন। ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, গবেষক, ম্যানেজার, উদ্যোক্তা হিসেবে অবদান রাখছেন।

তারেক রহমান বলেন, “প্রবাসে বিশ্বস্বীকৃত এইসব মেধাবীদের বাংলাদেশের সমৃদ্ধির পথে আরো গভীরভাবে যুক্ত করার ব্যাপারেও সরকরি বেসরকারি সব পর্যায় থেকেই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”