জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রিয়াংকা গোপ এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মৃদুলা সমদ্দার এবার একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন একুশে টেলিভিশনের জনপ্রিয় সংগীতানুষ্ঠান ‘গানের ওপারে’-তে। বিশেষ এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হলো—তারা শুধু দুই প্রজন্মের শিল্পীই নন, বাস্তব জীবনেও গুরু ও শিষ্যা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মৃদুলা সমদ্দার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ড. প্রিয়াংকা গোপের ছাত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে উচ্চাঙ্গ সংগীতেও তিনি দীর্ঘদিন প্রিয়াংকা গোপের কাছে তালিম নিয়েছেন। ২০০৬ সালে এটিএন বাংলার ‘এটিএন তারকা’ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন পিরোজপুরের মেয়ে মৃদুলা।অনুষ্ঠানে ড. প্রিয়াংকা গোপ পরিবেশন করেছেন হৈমন্তী শুক্লার ‘এতো কান্না নয় আমার’, নির্মলা মিশ্রের ‘ওগো উপোষী রূপসী রাত’, আঞ্জুমান আরার ‘আমি স্বপ্ন বনের নীল অপরাজিতা’ এবং নীলুফার ইয়াসমিনের ‘পথের শেষে অবশেষে’। অন্যদিকে মৃদুলা সমদ্দার গেয়েছেন শুভমিতার ‘আবার যেদিন ফিরে আসো’, মিতালী মুখার্জির ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’, দিলরুবা খানের ‘নির্জন যমুনার কোলে’ এবং আশা ভোঁসলের ‘মহুয়ায় জমেছে আজ মৌ গো’। শিগগিরই একুশে টেলিভিশনে প্রচার হবে অনুষ্ঠানটি।ড. প্রিয়াংকা গোপ বলেন, “একুশে টিভির এই আয়োজনে আগেও গান গেয়েছি। আবারও কিছু প্রিয় গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। প্রতিটি গানই শ্রোতা-দর্শকদের ভালো লাগবে বলে আশা করি। এবার মৃদুলার সঙ্গে আবারও দেখা হলো। সে আমার ছাত্রী। খুবই স্বতঃস্ফূর্ত, মেধাবী এবং শেখার প্রবল আগ্রহসম্পন্ন একজন শিল্পী। গুরু হিসেবে আমাকে সবসময় সম্মান করে, যা সত্যিই আনন্দের। তার নিজস্ব গায়কীও আমার খুব ভালো লাগে।”

মৃদুলা সমদ্দার বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রিয়াংকা দিদির ক্লাস করার সুযোগ হয়েছিল। পরে তাঁর কাছেই ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত শিখেছি। তিনি আমার গানের গুরু। একই অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে থাকতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। কিছুদিন আগে বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে দ্বৈত গান গাওয়ারও সৌভাগ্য হয়েছিল। আমি সবসময় প্রার্থনা করি, দিদি সুস্থ ও ভালো থাকুন। তাঁর মতো গুণী শিল্পী আমাদের দেশের সংগীতাঙ্গনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।”