তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অবশ্যই রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনীতিকে সাজাতে হবে। বর্তমানে রপ্তানি খাতে যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেই চ্যালেঞ্জগুলো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরে বাড়বে ছাড়া কমবে না।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সুপারিশ করেছে। এখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটা আবার অনুমোদন করতে হবে। যেহেতু এখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশ থাকবে, অতএব ধরে নিতে পারি যে এই শর্তটা তেমন একটা বাধা হবে না।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘আমরা ধরে নিতে পারি যে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা তিন বছর একটা বর্ধিত সময় পাব। কিন্তু এই তিন বছরকে আমরা কী কাজে লাগাব এবং কোথায় কোথায় কাজে লাগানো উচিত, কোথায় কোথায় কাজে লাগালে প্রকৃত অর্থেই আমাদের রপ্তানির ক্ষমতা, সক্ষমতা বাড়বে সেই বিষয়গুলো এখন আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ ও বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বিষয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন র্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ।
রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ভাটা
অনুষ্ঠানে র্যাপিড চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ভাটা অর্থাৎ নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গত চার বছরে দেশের রপ্তানি আয় কোনোভাবেই বাড়েনি, বরং আগের তুলনায় কমেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি ও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ রপ্তানিতে অনেক পিছিয়ে পড়ছে।
এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানি খাত এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এবং আমরা কতগুলো গভীর চ্যালেঞ্জ দেখতে পাচ্ছি। এর একটি বড় উদাহরণ হলো, গত চার বছরে আমাদের রপ্তানি একই জায়গায় আটকে আছে। অথচ আমাদের প্রতিযোগী দেশ কম্বোডিয়াসহ অন্যান্য দেশ এই সময়ে তাদের রপ্তানি যথেষ্ট পরিমাণে বাড়াতে পেরেছে।’
র্যাপিড চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের প্রধান বাজার—ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রে খুব দ্রুত আইনকানুন পরিবর্তন হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সুবিধা নিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ মারাত্মক প্রতিযোগিতার সক্ষমতার চাপের মধ্যে পড়েছে।
এম এ রাজ্জাক বলেন, এলডিসি উত্তরণের আগেই রপ্তানি সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। উত্তরণ হলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে ভবিষ্যতে রপ্তানি আরও দ্রুতগতিতে বাড়াতে হবে এবং রপ্তানি সক্ষমতাকে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) করেছিল। কিন্তু সেখানে যেসব সংস্কার ও কাজের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোতে গতি আনা সম্ভব হয়নি বলে জানান এম এ রাজ্জাক। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সিডিপি (কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি) বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কথা বললেও শর্ত দিয়েছে যে এই সময়টা নির্ভর করবে বাংলাদেশ সংস্কার করতে পারছে কি না তার ওপর। এসটিএসের কার্যকর বাস্তবায়ন না হলে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না।
নতুন রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ এনে রপ্তানি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হবে। যারা এখন রপ্তানিমুখী বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে।’
বাজারের প্রবেশাধিকার প্রসঙ্গে এম এ রাজ্জাক বলেন, এলডিসি উত্তরণ মানেই শুল্কমুক্ত সুবিধা বা বাণিজ্য সুবিধা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। উত্তরণের পরেও মুক্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে বা অন্য দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় দেনদরবার করে সুবিধা নেওয়া সম্ভব।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলেন যে বাইরে থেকে বাংলাদেশে করের হার কম মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের অনেক বেশি কর দিতে হয়, যা কার্যকর করহার। হয়তো কাগজে-কলমে করের হার ২৫ বা ২৭ শতাংশ, কিন্তু সব মিলিয়ে কার্যকর করের হার গিয়ে দাঁড়ায় ৫৫ শতাংশে। এই জায়গায় কাজ করতে হবে।








