গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত এক অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরকে (অতিরিক্ত পিপি) ছুরিকাঘাতের মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন পিপি আবু তাহের নয়ন। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি)। গত ২৮ জুন নয়নের বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানায় মামলা হয়। বৃহস্পতিবার তিনি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে তাকে আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার বাদী গাজীপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৫ জুন সকালে আদালত প্রাঙ্গণে একটি দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে নয়নের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নয়ন তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আঘাতটি তার ডান ভ্রুর ওপর লাগে এবং গুরুতর আহত হন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আহত অবস্থায় মনির মেঝেতে পড়ে গেলে নয়ন তার বুকের ওপর উঠে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে মনিরকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার কপালে সেলাই দেওয়া হয়। পরে তিনি মামলা করলে নয়ন আগাম জামিন চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করেন। গাজীপুর জেলা জজকোর্টের পিপি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটির প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাটি আদালত অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, বিচারিক পরিবেশে যে কোনো ধরনের সহিংসতা অনভিপ্রেত।