জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রংপুর, গাইবান্ধা ও সখিপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।রংপুর: দুপুরে রংপুর নগরীর দর্শনা এলাকায় এরশাদের সমাধি ‘পল্লী নিবাস’-এ শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিল শেষে জিএম কাদের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন জেলা এখন পানিতে ডুবে আছে। বানভাসি মানুষ চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বলব, আপনি নিজে গিয়ে তাদের অবস্থা দেখুন। শুধু দলের নেতা-মন্ত্রীদের পাঠিয়ে কোনো লাভ হবে না।”বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই দাবি করে জিএম কাদের আরও বলেন, গত জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো গণ-অভ্যুত্থান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি গণ-আন্দোলন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে তার আসা উচিত। তবে এই সরকারের ওপর বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর আস্থা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সভা শেষে তবারক বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও কাড়াকাড়ি সৃষ্টি হয়।গাইবান্ধা: শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির আয়োজনে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশীদ সরকার বলেন, এরশাদের শাসনামলে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য ছিল না, কিন্তু বর্তমানে মানুষ সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত। আলোচনা শেষে এরশাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।সখিপুর (টাঙ্গাইল): সখিপুর উপজেলা ও পৌর জাতীয় পার্টির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. আব্দুস সামাদ সিকদারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সমাজের সাবেক আহ্বায়ক নাজমুল হাসান রেজা। বক্তারা দেশের উন্নয়নে এরশাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। পরে মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।