বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে মিসরের হার নিয়ে বিতর্ক চলছে ফুটবল অঙ্গনে। রেফারির ওপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে বর্তমান-সাবেক ফুটবলার এমনকি অনেক কোচও নিন্দা জানাচ্ছেন। এই তালিকার একজন জোসে মরিনিয়ো।

চরম নাটকীয় এবং উত্তেজনায় ঠাঁসা ম্যাচের শেষ দিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। আটালান্টায় রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের চেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে ম্যাচের কয়েকটি রেফারিং ও ভিএআরের সিদ্ধান্ত। সেই বিতর্কে সরব হয়ে কিংবদন্তি কোচ মরিনিয়ো বলছেন, এটা রীতিমতো দিনের আলোয় ডাকাতি করার মতো।

আর্জেন্টিনা-মিসরের ম্যাচে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে চারিদিকে। বল জালে যাওয়ার পর ভিএআরের হস্তক্ষেপে মিসরের একটি গোল বাতিল করেন রেফারি। আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের সময় সম্ভাব্য অফসাইড নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ ছাড়া মিসরের খেলোয়াড়দের জড়িয়ে কয়েকটি ফাউল ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পর্যাপ্ত পর্যালোচনা (ভিএআর) হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রেফারির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে মরিনিয়ো বলেন, ‘এটা দিনের আলোয় ডাকাতি। ফুটবল কোথায় যাচ্ছে, সেটা লজ্জাজনক। যদি সত্যিই ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে খেলা থামানো হলো না কেন? খেলতে দেওয়া হলো, গোলও হয়ে গেল, তারপর ফিরে গিয়ে সেটি বাতিল করা হলো কেন? যদি ফাউল থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই খেলা বন্ধ করুন। গোল হওয়ার পর অপেক্ষা করবেন না।’

মরিনিয়ো আরও যোগ করেন, ‘এরপর আমার আরেকটি প্রশ্ন—আর্জেন্টিনার প্রথম গোলটি, যেটি অফসাইডের খুব কাছাকাছি মনে হচ্ছিল, সেটি একই গুরুত্ব দিয়ে কেন পর্যালোচনা করা হলো না? কেন আর্জেন্টিনাকে ঘিরে প্রতিটি ঘটনাই খুঁটিয়ে দেখা হলো, অথচ মিসর যেন একই ধরনের বিবেচনাই পেল না? ভিএআরের উদ্দেশ্য বিভ্রান্তি তৈরি করা নয়, বরং ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। কিন্তু আজ মনে হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সিদ্ধান্তই আর্জেন্টিনার পক্ষেই গেছে। ফুটবল এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু প্রাপ্য।’

ইয়াসির ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। শেষ দিকে ১৩ মিনিটের ঝড়ে দৃশ্যপট বদলে যায়। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর আর্জেন্টিনার হয়ে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি। এরপর যোগ করা সময়ে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে জয়সূচক গোলটা করেন এনসো ফার্নান্দেস।