যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মিয়ামি হচ্ছে এমন এক জায়গা যেখানে লাতিন অঞ্চলের মানুষ বেশি বসবাস করে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের পাশাপাশি এখানে একটা বড় অংশ কলম্বিয়ানদের দখলে। পর্তুগালের বিপক্ষে কলম্বিয়ার ম্যাচটি হবে এই মিয়ামিতে। তাই পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ মনে করেন এটি হবে এওয়ে ম্যাচের মতো।
প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘এটাই প্রথম ম্যাচ যেখানে আমরা এক অর্থে অ্যাওয়ে দলের মতো খেলব। মিয়ামিতে অসংখ্য কলম্বিয়ান সমর্থক রয়েছে। তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই পরিবেশে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলা, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।’
মিয়ামি বিদেশে বসবাসকারী কলম্বিয়ানদের অন্যতম বড় আবাসস্থল। বিশ্বকাপ চলাকালে শহরজুড়ে কলম্বিয়ার হলুদ জার্সি পরা সমর্থকদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে।
শনিবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই ম্যাচেই নির্ধারিত হবে গ্রুপসেরা দল। কলম্বিয়ার ঝুলিতে ৬ পয়েন্ট, আর পর্তুগালের ৪। পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের রাউন্ডে উঠবে কলম্বিয়া।
মার্তিনেজ বলেন, ‘এই ম্যাচটি ভেতরগতভাবে মূল্যায়নের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ এটি প্রমাণ করবে পর্তুগাল আসলে কোন পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম ম্যাচে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ জয় এই দুই ভিন্নধর্মী পারফরম্যান্সের পর দলকে আরও ভালোভাবে যাচাই করা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সমালোচনা বা বাইরের কথাবার্তা নিয়ে ভাবার সময় আমাদের নেই। আমাদের আরও ভালো করার বড় দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে মানসিক দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর শেষ ম্যাচে আমরা সেটা খুব ভালোভাবে সামলেছি।’
প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া সম্পর্কে মার্তিনেজ বলেন, ‘দলটি দ্বৈরথে খুবই শক্তিশালী এবং দ্রুত আক্রমণভাগে রূপান্তর ঘটাতে পারে। বল থাকুক বা না থাকুক, তারা সবসময়ই বিপজ্জনক।’
নকআউট পর্বের সম্ভাব্য ড্র নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন, ‘আপনি যদি টুর্নামেন্টে ভালো করতে চান, তাহলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্য থাকতে হবে। কোন পথে যেতে হবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই। এখনই বিশ্বকাপ জেতা বা ফাইনালে ওঠার কথা ভাবছি না, কারণ সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আগামীকালের লক্ষ্য একটাই, কলম্বিয়াকে থামানো এবং ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করা।’
শেষে তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রশংসা করেন। প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন রোনালদো।
মার্তিনেজ বলেন, ‘ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো একজন অধিনায়ক থাকা দলের জন্য বিশাল পাওয়া। তবে আমাদের আরও অনেক নেতা রয়েছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ, পোর্তোর অধিনায়ক দিওগো কস্তা, এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটি ও আল-হিলালের খেলোয়াড়রাও দলে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে।’
আরআর/আইএন






