জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ঢাকার জন্য ডাক আসবে। ঘরে ঘরে সেই লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, দেশ থেকে চাঁদাবাজ, দেশ থেকে দুর্নীতিবাজ, দেশ থেকে দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা থামব না।’

আজ শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তাঁর দোসরদের বিচারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সিলেটে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানে একটি বিমানবন্দর থাকলেও সেটার কোনো অগ্রগতি নেই। আজকের এই সমাবেশ থেকে দাবি করছি অবিলম্বে সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হোক। আজকে এখানে দাঁড়িয়ে রাশেদ প্রধান বলে গেলেন, ঢাকা থেকে বাসে রওনা করেছিলেন কিন্তু আসতে আসতে অসুস্থ হয়ে গেছেন। কারণ? কারণ সিলেটের রাস্তা। এই রাস্তাটা দীর্ঘদিন ধরে নাজেহাল। আমরা মহাজোটের সম্মেলনে বলেছি, সমুদ্রের ঢেউ উপলব্ধি করার জন্য বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার দরকার নেই। ঢাকা থেকে সিলেট এলেই তা বোঝা যাবে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। এখন কোনো ধানাইপানাই মানি না। গণভোটকে আমরা অপমান করতে দেব না। দেশে আমরা কোনো একনায়কতন্ত্র চাই না।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘সমাজের সব ক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া ও নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করছে। দুর্নীতিকেও তারা জাতীয়করণের পথে নিয়ে যেতে চাইছে। আমরা তা মেনে নেব না। হাসিনাকে যেভাবে জনগণ বিদায় করেছে, তেমনি কেউ যদি আবার ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করে, জনগণ তাদেরও ছাড় দেবে না, তাদেরও বিদায় করবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।