জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমি, জনগণের সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় সনদ ও গণভোটে প্রকাশিত গণ রায়ের আলোকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এখন সময়ের অনিবার্য দাবি বলে জানিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রেক্ষিতে দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণ শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য আত্মদান করেনি; তারা বৈষম্য দূরীকরণ, রাষ্ট্র পরিচালনার বিদ্যমান কাঠামোর পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন কাঠামো তথা অংশীদারত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

এতে আরও বলা হয়, দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকার সেই গণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে তথাকথিত সংশোধনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠনের পক্ষে সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। নামসর্বস্ব সংশোধন সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের বিকল্প হতে পারে না।

দলটির নেতারা বলেন, সংবিধান কোনো সরকার বা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দলিল নয়; এটি জনগণের সার্বভৌম সম্মতির দলিল। ফলে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে গতানুগতিক সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভিত্তি নির্ধারণের চেষ্টা জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকেই অস্বীকার করা। সরকার নির্বাচনপূর্ব রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের যে অঙ্গীকার করেছিল, বর্তমান উদ্যোগ তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়; জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা।

জেএসডি অবিলম্বে গণভোটে অনুমোদিত ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সাংবিধানিক কাঠামো প্রণয়ন করে অধিকতর সংস্কারের ভিত্তি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছে।

তাঁরা আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রত্যক্ষ প্রকাশ। সেই গণ রায় উপেক্ষা করে সরকার যদি গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের পরিবর্তে গতানুগতিক সংবিধান সংশোধনের পথেই অগ্রসর হয়, তবে ভবিষ্যতে উদ্ভূত সকল রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও আইনি সংকটের দায়ভার বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।