গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে এই বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, গণভোটে মানুষ সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের রায় দিয়েছেন। ‘রক্তাক্ত জুলাই সনদে’ দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় মানুষ বিএনপি, জামায়াত ও ১১ দলকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার গঠন করার পর সেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়কে এড়িয়ে তারা ‘ফ্যাসিবাদী’ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, ‘কৃষক কার্ড আর ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনা যে পথে গেছেন, তারেক রহমানও যদি সেই পথে হাঁটেন তবে তার ভাগ্যও ভিন্ন হবে না।’মামুনুল হক আরও বলেন, ‘মানুষ টাকার বিনিময়ে নিজের মর্যাদা বিক্রি করে না। শেখ হাসিনা ভেবেছিলেন পদ্মা সেতু আর মেট্রোরেল দিলেই মানুষ তার আত্মসম্মান বিসর্জন দেবে। কিন্তু ইতিহাস প্রমাণ করেছে, এ দেশের মানুষ না খেয়ে থাকলেও স্বৈরশাসকের কাছে মাথা নত করে না। বিএনপি যদি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভোটাধিকার হরণ করতে চায়, তবে আমরা রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মিলে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে আমাদের হারিয়েছে। তা না হলে আমরা অন্তত ১৮০টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে যেতাম। দেশের স্থিতিশীলতা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছি।’তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের জন্য আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিলাম। এই সনদ বাস্তবায়ন করলে কোনো সরকারই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারবে না। বিএনপি লুটপাট করতে পারবে না বলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাইছে না। তারা গণভোট ও জুলাই সনদকে আলাদা করে ফেলেছে।’জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া বলেন, ‘দেশ পরিচালনায় বিএনপি বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে তাদের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে দেশের জন্য কী এনেছেন, তা-ও দেশবাসীকে জানানো হচ্ছে না। সরকার জনগণের বিরুদ্ধে গেলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব না।’জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়া ময়মনসিংহ-২ ও ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশে অংশ নেন।