খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেছেন, অবিলম্বে গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচার ও পলাতক দণ্ডিতদের রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চাই।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার অপ্রতিরোধ্য জাগরণ।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও ‘ভুয়া’ স্লোগান অত্যন্ত দুঃখজনক
এসময় তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় উপকারভোগী হওয়া সত্ত্বেও গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করছেন। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারের পক্ষে গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায়কে উপেক্ষা করছেন। স্বাক্ষর দিয়েও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে অনীহা জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হলে মেধার সুস্থ বিকাশ রুদ্ধ হবে। ক্যাম্পাসে দলীয় আধিপত্যবাদী আচরণ যারা করছে, তা বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিন।
তিনি বলেন, বিরোধী দল-মতের বিরুদ্ধে বিগত ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের পদাঙ্ক অনুসরণের চেষ্টা করবেন না। বাংলাদেশের আপসহীন ছাত্র-জনতা নুতনভাবে ফ্যাসিবাদ এ দেশে কায়েম হতে দেবে না। জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সব স্তরে আন্দোলন আরও বেগবান করতে হবে।
আরও পড়ুন
ফিরে দেখা জুলাই / ‘দুই চোখে রাবার বুলেটের আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়’
গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও পলাতক ফ্যাসিবাদীদের গুম, খুন, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দ্রুত করার দাবিতে সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক।
দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মুহাদ্দিস শেখ সালাহউদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক ও ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আবদুল হক আমিনী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হাজী নুর হোসেন, মাওলানা নুরুল হক, মাওলানা নজরুল ইসলাম মাজহারী, আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, শ্রমিক মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম এরশাদ, খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী, মুজিবুর রহমান ফরাজী, মুফতি উসমান, মতিউর রহমান ফরাজী, প্রকৌশলী শাহ শিহাব উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মতিউর রহমান প্রমুখ।
এমএএস/কেএসআর








