প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় ব্লিডিং হলে কি নামাজ বন্ধ রাখতে হবে? রোজা রাখা যাবে? কোরআন তিলাওয়াত করা যাবে?
উত্তর: গর্ভাবস্থায় হালকা রক্তপাত যাকে ডাক্তাররা ইমপ্ল্যান্টেশন ব্লিডিং বলে থাকেন, তা শরিয়তে হায়েজ বা ঋতুস্রাব নয় বরং ইস্তেহাজা বা অসুস্থতা গণ্য হয়। তাই এ রকম রক্তপাত হলেও পরিচ্ছন্ন হয়ে অজু করে নামাজ পড়া যাবে, রোজা রাখা যাবে, কোরআন তিলাওয়াতও করা যাবে। এ সময় ফরজ নামাজ আদায় করা ফরজ। রমজান মাস হলে এবং রোজা ছাড়ার অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ওজর না থাকলে রোজা রাখা ফরজ।
গর্ভাবস্থায় দেখা যাওয়া রক্ত সম্পর্কে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, এই রক্ত নামাজ থেকে বিরত রাখে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: ৬০৯৯)
আরও পড়ুন
চন্দ্রগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীর করণীয়, ইসলাম কী বলে?
আর যদি গর্ভাবস্থায় ব্লিডিং হয়ে মিসক্যারেজ হয়ে যায় বা মিসক্যারেজের কারণে ব্লিডিং হয়, তাহলে দেখতে হবে গর্ভের বাচ্চা মানবাকৃতি ধারণ করেছিল কি না। বাচ্চা যদি মানবাকৃতি ধারণ করে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হয়ে যায়, তাহলে গর্ভপাত পরবর্তী রক্তপাত নেফাস গণ্য হবে। রক্তপাত বন্ধ হলে ওই নারী পবিত্র হয়ে যাবেন। রক্তপাত অব্যাহত থাকলে ৪০ দিন পর্যন্ত নামাজ-রোজা থেকে বিরত থাকবেন। এ সময়ের নামাজের কাজা করতে হবে না, তবে রোজার কাজা করতে হবে।
৪০ দিন পরও রক্তপাত অব্যাহত থাকলে তা ইস্তেহাজা বা অসুস্থতা হিসেবে গণ্য হবে। এ সময় তিনি প্রতি ওয়াক্তে পরিচ্ছন্ন হয়ে অজু করে নামাজ আদায় করবেন, রোজাও রাখবেন।
গর্ভের বাচ্চা যদি মানবাকৃতি ধারণ না করে, কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত না হয়, গর্ভপাতের আগে পনেরো দিন ওই নারী রক্তপাতমুক্ত থেকে থাকেন এবং গর্ভপাতের পর রক্তপাত তিন দিনের বেশি অব্যাহত থাকে, তাহলে এই রক্তপাত ১০ দিন পর্যন্ত হায়েজ গণ্য হবে।
১০ দিন পরও রক্তপাত অব্যাহত থাকলে তা অসুস্থতা হিসেবে গণ্য হবে। এ সময় তিনি প্রতি ওয়াক্তে পরিচ্ছন্ন হয়ে অজু করে নামাজ আদায় করবেন, রোজাও রাখবেন।
আরও পড়ুন
অন্তঃসত্ত্বা নারী যেভাবে নামাজ পড়বেন
ওএফএফ








