ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ৭৮ মিনিট খুঁজেই পাওয়া গেল না আর্লিং হলান্ডকে। ম্যাচের আগে তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া সব আলোচনাকে মনে হচ্ছিল বাড়াবাড়ি। কিন্তু যাঁরা প্রিমিয়ার লিগে হলান্ডের খেলা নিয়মিত দেখেন, তাঁরা জানেন হলান্ডের প্রয়োজন মূলত দু-একটি মুহূর্ত। সেই মুহূর্তটিই হলান্ডের জন্য এল ম্যাচের ৭৯ মিনিটে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের বাড়ানো ক্রসে গ্যাব্রিয়াল মাগালাইসকে ছিটকে ফেলে হেডে বল জালে জড়িয়ে এগিয়ে দেন নরওয়েকে।

তবে এমন মুহূর্ত ম্যাচে হলান্ড একবার নয়, দুবার পেয়েছেন। দ্বিতীয়টি ছিল ৯০ মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। এই গোলেই মূলত প্রথমবারের মতো নরওয়ের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়ে যায়।

ফলে হলান্ড ম্যাচে কত বেশি সময় ভালো খেললেন, সেটি নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তিনি কতবার ঠিক জায়গায় বল পেয়েছেন সেটি। দলকে জেতানোর জন্য পুরো ম্যাচের বদলে কয়েকটি মুহূর্ত হলেই যে চলে, সেটি মনে করেন হলান্ড নিজেও।

নেইমারদের কাঁদিয়ে ইতিহাস গড়লেন হলান্ডরা

ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, অল্প কয়েকটি সুযোগ থেকেই গোল বের করে আনার সামর্থ্য তাঁর কাছে ‘সৃষ্টিকর্তার উপহার’। পাশাপাশি এই জয়কে তিনি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ জয় বলেও অভিহিত করেছেন।

হলান্ড গোল উদ্‌যাপন

ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমি যদি এক-দুটি সুযোগ পাই, বেশির ভাগ সময়ই সেগুলো গোলে পরিণত হয়। কীভাবে এটা করি, আমি নিজেও জানি না। তবে এমনটাই হয়। আসল বিষয় হলো শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা। আমি নিজেকে বলি, সুযোগ আসবেই।’

চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৭ গোল নিয়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন হলান্ড। চার ম্যাচ খেলে তিনটিতে করেছেন জোড়া গোল এবং অন্যটিতে ১ গোল। বুটের লড়াইয়ে থাকা এই স্ট্রাইকারকে এমন ফর্মের রহস্য বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমি বুঝতে শুরু করেছি যে পোস্ট ঘেঁষে বল জালে ঢুকে যাওয়াটা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া এক উপহার। ব্যাপারটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

ব্রাজিলকে হারিয়ে হলান্ড এখন স্বস্তিতে

ম্যাচের বেশির ভাগ সময় ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকিয়ে টিকে থাকায় দলের দৃঢ় মানসিকতার প্রশংসা করেছেন হলান্ড। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথাও উল্লেখ করেন, ‘আশা করি, আমার এই সাক্ষাৎকার যে ছোটরা দেখছে, তারা বড় হয়ে বুঝবে যে নরওয়ের হয়ে খেলাই জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় হতে পারে।’

ব্রাজিলের বিপক্ষে এই জয়কে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সেরা দিন বলে মন্তব্য করে হলান্ড যোগ করেন, ‘হয়তো এই দিনটাই নরওয়ের ফুটবল ইতিহাস বদলে দেবে। এখন সবার উচিত এই মুহূর্তটা উপভোগ করা। আজকের দিনটা অবিশ্বাস্য। নরওয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। এই মুহূর্তকে আপন করে নিন, উপভোগ করুন।’