স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গ্রামীণ জনপদকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তি‌নি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নের যে শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে সেই ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেন।" ​প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-সমন্বিত জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবায়ন করছে। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বা বিআরডিবির সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সরকারের লক্ষ্য বিআরডিবির হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।" একই সাথে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে গ্রামীণ অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।" ​আলোচনা সভার শুরুতেই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত একটি বিশেষ স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সফল উদ্যোক্তারা তাদের জীবনের সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন। তারা জানান যে, সরকারের নানামুখী সহায়তা এবং নিজস্ব প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে তারা কীভাবে আজ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। ​পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সমবায়ী ও সুফলভোগীরা এই আলোচনা সভায় অংশ নেন।