মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় নিখোঁজের ১৮ দিন পর গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নিজ বসতবাড়ির উঠানের প্রায় ৮ ফুট মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় জাহেদা বেগমের (৩৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

সোমবার (৬ জুলাই) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খনন করে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন থেকে জাহেদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার খোঁজ জানতে চাইলে আলমগীর আলী দাবি করেন, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছে। দীর্ঘ দিন খোঁজ না পাওয়ায় একই ইউনিয়নের সোনাটিকী গ্রামের বাসিন্দা নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির তদন্তে পুলিশ আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, হত্যার পর মরদেহ বাড়ির উঠানে প্রায় ৮ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দিয়ে রেখেছেন।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে খননকাজ চালানো হয়। পরে মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী (৪০), জালাল আহমদ, আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহেদা ও আলমগীর দম্পতির ছয় বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, আলমগীর স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জের ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।