গুম, জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে গুলশানের একটি বাড়ি দখলের বহুল আলোচিত মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামে করা সম্পত্তির রেজিস্ট্রি এবং পরবর্তী সব হস্তান্তর ও নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
এ রায়ে প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। সোমবার (১৩ জুলাই) আপিল বিভাগ এ রায় দেন।
আরও পড়ুন
নাসা গ্রুপ চেয়ারম্যান নজরুলের গুলশানের প্লটসহ জমি জব্দের আদেশ
মামলার নথি অনুযায়ী, গুলশানের সিডব্লিউএন (নর্থ) এলাকার একটি বাড়ি বন্ধক রেখে এআরএ জুট ট্রেডিং করপোরেশন অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। পরে ঋণ খেলাপি হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করে সম্পত্তি ছাড়িয়ে নেওয়ার আবেদন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীসময়ে একটি ভুয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দেখিয়ে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করা হয়।
উচ্চ আদালত-ফাইল ছবি
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, আপিল বিভাগে মামলা বিচারাধীন থাকাকালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল কবির খানকে গুম করে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। পরে দেশে ফিরে তিনি গুম কমিশনে অভিযোগ করেন এবং জোরপূর্বক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরে রিভিউ আবেদন করেন। সেই আবেদন গ্রহণ করে পুনরায় শুনানির পর আপিল বিভাগ তার আপিল মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন
নাসা গ্রুপের নজরুলকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো
বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে ভুয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), জাল স্বাক্ষর ও অসত্য তথ্যের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এসব বিবেচনায় আপিল বিভাগ সম্পত্তির মূল হস্তান্তরসহ পরবর্তী সব নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে প্রকৃত মালিকের সম্পত্তি ফিরে পেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
এফএইচ/এসএইচএস








