গুরুদাসপুরে গুমানী নদী পারাপারের জন্য খেয়া নৌকা থাকলেও মাঝি নেই। নদী বরাবর টাটানো রশি টেনেই পারাপার হতে হয় সাত গ্রামের মানুষকে। এ কারণে খেতের ফসল, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা বাজারসংলগ্ন এ খেয়াঘাটে একটি ব্রিজের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় নদীটির উত্তর-পূর্ব নাটোর-পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার সাত গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানায়, গুমানী নদীর পশ্চিমে গুরুদাসপুরের কাছিকাটা হাট-বাজার। উত্তর-পূর্ব পাড়ের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নলডাঙ্গা ও হামকুড়া পাবনার চাটমোহরের এনায়েতপুর এবং গুরুদাসপুরের বিলব্যাসপুর, বিলকাঠর, রানীগ্রাম ও ইয়াসিনপুর গ্রামগুলো চলনবিলবেষ্টিত। বর্ষায় এসব গ্রাম থইথই পানিতে নিমজ্জিত থাকে। শুকনোয় খাঁখাঁ করে। ভঙ্গুড় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গ্রামগুলোর মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না।

পায়ে হেঁটে নদী পাড়ে আসতে হয়। বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় খেতে উৎপাদিত ফসল হাটে আনতে। মাথায় ও গরু-মহিষের গাড়িতে ফসল নদীর ঘাট পর্যন্ত আনা গেলেও খেয়া নৌকায় পারাপারে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে পড়তে হয় জীবনের ঝুঁকিতে। কাছিকাটা হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মানিক শাহ্ বলেন, বর্ষাকালে নদী উত্তাল হয়ে ওঠায় নয় হাজার টাকা বেতনে একজন মাঝি রাখা হয়েছে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এতে যাত্রীদের সাময়িক সুবিধা হলেও ঝুঁকি থেকেই যায়। মশিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারী বলেন, চলনবিলের কৃষি সম্ভাবনাকে ঘিরে এখানে একটি রাবারড্যাম কাম ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলেন বিগত সরকার। মাপজোকও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন গুরুদাসপুর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, গুমানী নদীর ওপর সেতুর পাশাপাশি একটি রাবারড্যাম নির্মাণ করা গেলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এতে নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

অনুমোদন মিললে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।