রাজধানীর মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের ফুটপাত ও প্রবেশপথ হকারমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। অভিযানের পর স্থায়ী হকারদের আর দেখা না গেলেও চারটি প্রবেশপথে ভিক্ষুকের উপস্থিতি এবং ফুটপাতে মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের কারণে পথচারীদের ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের চারটি প্রবেশপথ ও দুই পাশের ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কোনো স্থায়ী হকার নেই। অরিজিনাল-১০ নম্বর মোড় থেকে ডান পাশে ফায়ার সার্ভিসের গেট এবং বাম পাশে আলোক হাসপাতাল থেকে এফএস স্কয়ার মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত হকারমুক্ত রয়েছে।
তবে, এই এলাকার বাইরে মেট্রো স্টেশনের সীমানা ছাড়িয়ে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে হকারদের বসতে দেখা গেছে।
মেট্রো স্টেশনের নিচে হকারমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। কামরুজ্জামান নামে এক অফিসগামী যাত্রী বলেন, আমার অফিস ১০ নম্বরে। প্রতিদিন মেট্রোতে যাতায়াত করি। আগে হকার ও ক্রেতার ভিড়ে হাঁটাচলা খুবই কষ্টকর ছিল। এখন পরিবেশ অনেক পরিষ্কার লাগছে। তবে ফুটপাত আরও পরিষ্কার রাখা এবং ভিক্ষুকদের সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
ফায়ার সার্ভিস গেটসংলগ্ন প্রবেশপথেও হকারদের দেখা যায়নি। প্রধান সড়কে ড্রেন নির্মাণকাজ চলায় অনেক পথচারী মেট্রোস্টেশনের ফুটপাত ব্যবহার করছেন।
আরেক পথচারী সোহাগ বলেন, আগে দোকান আর ক্রেতার ভিড়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা যেত না। ভিড়ের সুযোগে মোবাইল চুরির ঘটনাও ঘটতো। এখন স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে। তবে, এই অবস্থা কতদিন থাকবে সেটাই দেখার বিষয়।
স্টেশন এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে ভিক্ষুক ও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের সমস্যা। স্টেশনের দুই পাশে একাধিক মোটরসাইকেল ফুটপাতে পার্কিং করা ছিল। এছাড়া, অন্তত ১০ জন ভিক্ষুককে যাত্রীদের কাছে ভিক্ষা চাইতে দেখা গেছে। কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ সিগারেট বিক্রেতাও ফুটপাতে ঘোরাফেরা করছিলেন।

মোটরসাইকেল চালক শামীম বলেন, বাইক কোথায় পার্কিং করবো? রাস্তায় রাখলে পুলিশ মামলা দেয়, আবার চুরিরও ভয় থাকে।
স্টেশনের এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, মোটরসাইকেল চালকদের বারবার নিষেধ করা হলেও তারা আবার এসে ফুটপাতে বাইক রাখেন। একই অবস্থা ভিক্ষুকদের ক্ষেত্রেও। তাদের সরিয়ে দিলেও কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে আসেন।

এর আগে, গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ডিএমটিসিএল। অভিযানে যাত্রী চলাচল ও নিরাপত্তার প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ স্থাপনা ও দখল অপসারণ করা হয়।
ডিএমটিসিএলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলী, মো. জাহিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ডিএমটিসিএলের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), এমআরটি পুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ আনসার, ডেসকো ও ওয়াসার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এসএম/এএমএ








