২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়াচ্ছেন জেন–জি ফুটবলাররা। গতি, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস আর বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা দিয়ে তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন নতুন প্রজন্মের আইকন হিসেবে। কিন্তু তাঁদের সাফল্যের গল্প শুধু ৯০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের বাইরেও তাঁরা গড়ে তুলেছেন বহুমূল্যের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড।

মাঠের বাইরে তাঁরা গড়ে তুলেছেন বহুমূল্যের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড

বর্তমান ফুটবল শুধু গোল আর ট্রফির খেলা নয়; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া–ব্যবসাগুলোর একটি। ক্লাবের মোটা অঙ্কের বেতন, পারফরম্যান্স বোনাস, স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপনচুক্তি, এনডোর্সমেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি অনুসারী—সব মিলিয়ে বয়স ত্রিশ ছোঁয়ার আগেই এই ফুটবলাররা শতকোটি ডলারের অর্থনীতির অংশ হয়ে উঠেছেন। অনেকের আয় এখন বিশ্বের শীর্ষ করপোরেট নির্বাহীদের সঙ্গেও পাল্লা দেয়।

এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত জেন–জি ফুটবল তারকাদের মধ্যে আছেন নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, আর্জেন্টিনার হুলিয়ান আলভারেজ, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম এবং ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে।

মাঠে তাঁদের পারফরম্যান্স মুগ্ধ করছে কোটি দর্শককে

মাঠে তাঁদের পারফরম্যান্স যেমন কোটি দর্শককে মুগ্ধ করছে, তেমনি মাঠের বাইরের আয়ও বিস্মিত করছে ফুটবল বিশ্বকে। কে কত সম্পদের মালিক সেটা জানার আগ্রহ থাকতেই পারে।

অতএব এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ধনী জেন–জি ফুটবল তারকাদের।

৫. লামিনে ইয়ামাল

মাত্র ১৮ বছরেই ইয়ামাল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিভাদের একজন

• বয়স: ১৮

• মোট সম্পদ: ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা)

তালিকার সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার ইয়ামাল। মাত্র ১৮ বছরেই তিনি বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিভাদের একজন। বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ফুটবলার হিসেবে তাঁর বাজারমূল্য ইতোমধ্যেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। নতুন চুক্তি, এনডোর্সমেন্ট ও বিজ্ঞাপন থেকে আগামী কয়েক বছরে তাঁর সম্পদ দ্রুত আরও বাড়বে বলাই যায়।

৪. হুলিয়ান আলভারেজ

ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড

• বয়স: ২৬

• মোট সম্পদ: ২০–২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪৪–৩০৫ কোটি টাকা)

জাতীয় দল ও ক্লাবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে চলেছেন আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড । সেই সঙ্গে বাড়ছে তাঁর বাণিজ্যিক মূল্যও।

৩. জুড বেলিংহাম

অল্প বয়সেই বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বেলিংহাম

• বয়স: ২৩

• মোট সম্পদ: ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৬১০ কোটি টাকা)

অল্প বয়সেই বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই ইংরেজ ফুটবলার। ক্লাবের বেতনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও উল্লেখযোগ্য আয় করেন।

২. উসমান দেম্বেলে

দেম্বেলে দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলছেন

• বয়স: ২৯

• মোট সম্পদ: ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৯৩ কোটি টাকা)

ফ্রান্সের এই উইঙ্গার দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলছেন। ক্লাব ফুটবলের আয় ও বাণিজ্যিক চুক্তি মিলিয়ে সম্পদের দিক থেকে তিনি এই তালিকায় দ্বিতীয়।

১. আর্লিং হলান্ড

২৫ বছর বয়সেই সম্পদের দিক থেকে সবার ওপরে আর্লিং হলান্ড

• বয়স: ২৫

• মোট সম্পদ: ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ হাজার ২২০ কোটি টাকা)

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সম্পদের দিক থেকে সবার ওপরে নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার মাঠের মতো সম্পদের তালিকাতেও সবার ওপরে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে খেলার সুবাদে বেতন, পারফরম্যান্স বোনাস ও একাধিক বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি তাঁর সম্পদের প্রধান উৎস।

সম্পদের বিচারে আপাতত হলান্ডই সবার শীর্ষে। তবে বয়স, জনপ্রিয়তা আর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় লামিনে ইয়ামাল, জুড বেলিংহাম ও হুলিয়ান আলভারেজের সম্পদের পরিমাণ আগামী কয়েক বছরে আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

আর একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। মোট সম্পদ বা নেট ওয়ার্থ ও ট্রান্সফার ভ্যালু এক নয়। নেট ওয়ার্থে বেতন, বোনাস, বিজ্ঞাপন, এনডোর্সমেন্ট, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদ অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ট্রান্সফার ভ্যালু হলো কোনো ক্লাব সেই খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে সম্ভাব্য কত অর্থ ব্যয় করতে পারে, তার একটি আনুমানিক বাজারমূল্য।

ছবি: ইন্সটাগ্রাম