দিন যত যাচ্ছে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ততই বাড়ছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম উপসর্গে (সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত রোগী) আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। মৃতদের সিংহভাগই শিশু। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২৬ জুন সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে শিশু মৃত্যু ৭০০ ছাড়ায়। এর ২৭ দিনের মাথায় মৃত্যু ৮০০ ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে অর্থাৎ সন্দেহভাজন হামে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ এবং সিলেট বিভাগে দুই শিশু রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ৩৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জনের শরীরে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৪১ জনে। অন্যদিকে হাম উপসর্গ তথা সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে ৯০৪ জন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৯ হাজারের বেশি। বাংলাদেশ গত প্রায় ৪ মাস ধরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল দেখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য বলছে, গত বছরের (২০২৫) ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ৬ মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম কিংবা হাম উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। এ সময়ে এত রোগী আর কোনো দেশে পাওয়া যায়নি। বিশ্বজুড়ে হাম ও রুবেলা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তর জেনেভায় নিয়মিত যে প্রাথমিক উপাত্ত জমা হয়, সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে সেই তথ্য সংগ্রহ করে এই চিত্র দেখা গেছে। ডব্লিউএইচও এই ৬ মাসে বিশ্বের ১৬৫ দেশে ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম কিংবা এর উপসর্গের রোগী পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে। পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, সবচেয়ে বড় হাম সংকট এখন দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬ মাসে হাম সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এ সময়ে দেশটিতে হামের উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৬০৭ জন। যুদ্ধপীড়িত ইয়েমেন ১৪ হাজার ৫২১ রোগী নিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে। শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে এরপর রয়েছে মেক্সিকো (১২৪৯৫), পাকিস্তান (১১০৩৭), ক্যামেরুন (৯৬৫৩), কাজাখস্তান (৭৭৩০), গুয়েতেমালা (৬৮৩২), অ্যাঙ্গোলা (৬৮১৫) ও সুদান (৫৭৬৬)। দেশে শিশুদের সুরক্ষায় হামের এমআর (মিজেলস-রুবেলা ভ্যাকসিন) টিকার প্রথম ডোজ সাধারণত ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়। বিগত দুই সরকারের সময়ে হামের টিকার অভাব ও কভারেজের ঘাটতির কারণে সম্প্রতি দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ৯ মাসের কম বয়সি শিশুদের মাঝে মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় এবং দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণে শিথিলতা থাকায় হাজার হাজার শিশু নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়। চলতি বছরের ৫ এপ্রিল ঢাকার বাইরে বিশেষ গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১২ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী জাতীয়ভাবে গণটিকা কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকার।