বর্তমানে দেশজুড়ে চলছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর মনে নিশ্চয় উঁকি দিচ্ছে—কোন বিষয়ে পড়বেন, কীভাবে গড়ে তুলবেন ক্যারিয়ার। প্রথাগত বিষয়ের ভিড়ে অনেকে হয়তো হর্টিকালচার (উদ্যানতত্ত্ব) বা কৃষি নিয়ে ভাবছেন। বাস্তবতা হলো, বর্তমান বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, গ্রিনহাউস, ছাদবাগান এবং উচ্চমূল্যের ফল-ফুল-সবজি উৎপাদনের বিস্তৃত সুযোগ তৈরি হওয়ায় এ খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদাও বাড়ছে। প্রকৃতি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে আধুনিক ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে হর্টিকালচার হতে পারে দারুণ একটি পছন্দ।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মোটেও সময় নষ্ট করা যাবে না। কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা উচিত।
হর্টিকালচার বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
⬤ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
⬤ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর
⬤ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
⬤ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
এ ছাড়া কৃষি গুচ্ছভুক্ত অন্যান্য সরকারি কৃষি ও কৃষিপ্রধান বিশ্ববিদ্যালয়েও কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সাধারণত জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিত বিষয়ে প্রস্তুতির ভিত্তিতেই কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
হর্টিকালচার বিষয়ে ফল, ফুল ও সবজি উৎপাদন, উদ্ভিদের বংশবিস্তার, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, টিস্যু কালচার, ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী প্রযুক্তি, উদ্যান ফসলের রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ ও গবেষণাও এ শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হর্টিকালচার বা কৃষি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর সরকারি, বেসরকারি, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা—সব ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে।
কৃষি বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বৃত্তি নিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণা অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারলে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষিপ্রযুক্তি কোম্পানি, গ্রিনহাউস শিল্প এবং বাণিজ্যিক কৃষি খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যাঁরা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, মাটির সুবাসে বুক বাঁধেন এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধনে একটি আধুনিক স্মার্ট ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাঁদের জন্য হর্টিকালচার বা কৃষি শিক্ষা এক আদর্শ ক্ষেত্র।







