বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, শেখ হাসিনা উন্নয়নের নামে লুটপাট করে বলতো এটাই গণতন্ত্র। দেশে সেই হাসিনা মার্কা গণতন্ত্র শেখালে জনগণও জুলাই ছবক দেখিয়ে দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা খেলাফত মজলিস আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত—এর একটি ৭২ আর অন্যটি ২৪। ৭২ হলো বাংলাদেশে পরাজিত ও বিতাড়িত শক্তি। আপনারা যদি ২৪ এর গলায় ছুরি চালিয়ে ৭২ এর পক্ষে দাঁড়াতে চান, তবে আপনাদের সঙ্গেও আমাদের আচরণ ভিন্ন কিছু হবে।
আরও পড়ুন
রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষের ঘটনার ব্যাখ্যা দিলেন মামুনুল হক
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচন, ১৮-তে রাতের ভোট এবং ২৪-এ ‘আমি আর ডামি’ মার্কার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ছিনতাই করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা জনগণকে বোঝাতে চেয়েছিলেন উন্নয়ন করলেই গণতন্ত্র হয়ে যায়, ভোটের প্রয়োজন নেই।
মামুনুল হক আরও বলেন, দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে পদ্মাসেতু আর ঢাকার মানুষকে মেট্রোরেল দেখিয়ে বলা হয়েছিল ‘আমি যা চুরি করেছি করেছি, উন্নয়ন তো করেছি, এটাই তোদের গণতন্ত্র।’ উন্নয়ন দেখিয়ে জনগণের চোখ বাঁধতে চেয়েছিল বিদায়ী সরকার।
তিনি বলেন, তবে আমি জানি না, বর্তমান সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার সেই ভূত নতুন করে সওয়ার হয়েছে কি না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, সরকার ঘরে ঘরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ আর ক্ষেতে-খামারে ‘কৃষক কার্ড’ দিয়ে কিছুদিন পর হয়তো বলবে—এটাই তাদের গণতন্ত্র। ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষক কার্ডের উন্নয়নের গণতন্ত্রের ছবক দিতে চাইলে বাংলাদেশের মানুষ আবারও ‘জুলাই বিপ্লবের’ ছবক স্মরণ করিয়ে দেবে।
আরও পড়ুন
বর্তমান সরকার গণভোট-সংস্কারের পেছনে ছুরিকাঘাত করেছে: মামুনুল হক
খেলাফত যুব মজলিস দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
এছাড়াও সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের জেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করে নোয়াখালী জেলা খেলাফত মজলিস।
আইএইচএম/এমএমকে








