ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ কাজিম আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি। রোববার (২৮ জুন) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে তাদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ইরান-ইরাকের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই শনিবার (২৭ জুন) রাতে এ সফরের ঘোষণা দেন। সাধারণত এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফরের ঘোষণা আগে থেকে দেওয়া হলেও এবার শেষ মুহূর্তে জানানো হয়েছে। ফলে, সফরটি ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি করেছে।
দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরের আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে রয়েছে ইরাক। এমন প্রেক্ষাপটে আরাঘচির সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আরাঘচির সফর তেহরান ও বাগদাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তা বহন করছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ছাড়াও এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য খামেনির মৃত্যুতে স্মরনসভার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা। ইরাকের পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে ইসলামি বিপ্লবের নেতা শহিদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইরাকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন আরাঘচি
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন আরাঘচি। ওই বৈঠকেও দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে বাগদাদে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, বাগদাদের গ্রিন জোনে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে কারা অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গ্রিন জোন (Green Zone) হলো ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে প্রবেশের পর এ এলাকাটি বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়। এখানে ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অবস্থিত। এছাড়া ইরাকি সংসদ এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এই গ্রিন জোনে অবস্থিত। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, একাধিক চেকপোস্ট এবং সীমিত প্রবেশাধিকার থাকার কারণে এটি ইরাকের সবচেয়ে নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চলগুলোর একটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক সরকার সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশে আইন-শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছেন। আগামী জুলাইয়ে তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। সে সফরের আগে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি প্রত্যাশা করবে ওয়াশিংটন।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি/ দ্য জেরুজালেম পোস্ট
কেএম








