বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। প্রতিদিন প্রায় ৯০ কোটি মানুষ ব্যক্তিগত আলাপ, অফিসের কাজ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ থেকে শুরু করে অডিও-ভিডিও কল সব ধরনের যোগাযোগের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করেন। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে এবং নিরাপত্তা বাড়াতে মেটা নিয়মিত নতুন নতুন এআই-ভিত্তিক ও প্রাইভেসি ফিচার যুক্ত করছে।

সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম ফিচার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুধু এই নতুন ফিচারই নয়, এমন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইভেসি ও হিডেন ফিচার রয়েছে, যেগুলো অনেক ব্যবহারকারী এখনও ব্যবহার করেন না। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেসব সুবিধা।

১. ব্যক্তিগত চ্যাট রাখুন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত

ফোন যদি পরিবারের সদস্য বা অন্য কারো হাতে যায়, তাহলে ব্যক্তিগত কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট লক ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য যে চ্যাটটি লক করতে চান সেটি লকড চ্যাটসে নিয়ে যান। এরপর হাইড লকড চ্যাটস অপশন চালু করে একটি গোপন কোড নির্ধারণ করুন। পরে সেই কোড সার্চ বারে লিখলেই লক করা চ্যাটটি দেখা যাবে। ফলে অন্য কেউ সহজে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট দেখতে পারবে না।

আরও পড়ুন

অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ, হ্যাকার হলে আগেই সতর্ক করবে হোয়াটসঅ্যাপ

২. ইউজারনেম ফিচার

মেটা এমন একটি ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেই অন্য ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই ফিচারটি পরীক্ষাধীন রয়েছে। বিভিন্ন দেশে ধাপে ধাপে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং কিছু অঞ্চলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে মেটার আলোচনা চলমান।

৩. ভয়েস মেসেজ পড়েই বুঝে নিন

অনেক সময় মিটিং, অফিস বা জনসমাগমে ভয়েস মেসেজ শোনা সম্ভব হয় না। সেই সমস্যার সমাধান হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েজ মেসেজ ট্রান্সক্রিপশন ফিচার ভয়েস মেসেজকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিখিত টেক্সটে রূপান্তর করে। এটি চালু করতে সেটিংস > চ্যাটস > ভয়েজ মেসেজ ট্রান্সক্রিপসে গিয়ে ফিচারটি অন করুন।

৪. গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট আলাদা রাখুন

প্রতিদিন অসংখ্য মেসেজের ভিড়ে জরুরি চ্যাট খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা দূর করতে রয়েছে চ্যাট লিস্ট ফিচার। যে কোনো চ্যাটে লং প্রেস করে অ্যাড টু লিস্ট নির্বাচন করলে পরিবার, অফিস, বন্ধু বা অন্য যেকোনো বিভাগ তৈরি করা যায়। ফলে প্রয়োজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ চ্যাট দ্রুত খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

৫. চ্যাটের মধ্যেই এআই সহায়তা

হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যেই এখন মেটা এআই ব্যবহার করা যায়। আলাদা অ্যাপ বা উইন্ডো খুলতে হয় না। চ্যাট করার সময়ই মেটা এআই-এর সাহায্যে তথ্য খোঁজা, লেখা তৈরি, অনুবাদ করা, ই-মেইল বা ক্যাপশন লেখা, নতুন আইডিয়া বের করা কিংবা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

৬. নম্বর সেভ না করেই মেসেজ পাঠান

কাউকে একবারের জন্য মেসেজ পাঠাতে হলে ফোনে নম্বর সেভ করার প্রয়োজন নেই। ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে wa.me/দেশের_কোডসহ_মোবাইল_নম্বর লিখলেই সরাসরি সেই ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট উইন্ডো খুলে যাবে।

৭. ক্লাউড ব্যাকআপও রাখুন নিরাপদ

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত চ্যাট ডিফল্টভাবেই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন থাকে। তবে গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউডে রাখা ব্যাকআপে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চালু না থাকলে ঝুঁকি থাকতে পারে। এটি সক্রিয় করতে সেটিংস > চ্যাটস > চ্যাট ব্যাকআপ > এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যাকআপে গিয়ে একটি পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন কী সেট করুন। এরপর ক্লাউডে সংরক্ষিত ব্যাকআপও অতিরিক্ত সুরক্ষায় থাকবে।

হোয়াটসঅ্যাপের এই ফিচারগুলো ব্যবহার করলে শুধু ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তাই বাড়বে না, পাশাপাশি চ্যাটিং, ফাইল শেয়ারিং, ভয়েস মেসেজ এবং দৈনন্দিন যোগাযোগও আরও সহজ ও কার্যকর হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন

মেসেজিং হবে আরও স্মার্ট, হোয়াটসঅ্যাপে আসছে আইফোনের মতো ফিচার

কেএসকে