চট্টগ্রাম: সরকারি কেনাকাটার ইলেকট্রনিক পদ্ধতি ই-জিপি (e-GP) চালু থাকলেও নতুন ও তরুণ ঠিকাদাররা বড় প্রকল্পে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। দৈনিক পূর্বদেশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ষিক টার্নওভার ও পূর্ব অভিজ্ঞতার কঠোর শর্তের কারণে অনেক নতুন উদ্যোক্তা দরপত্রে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন; ফলে কাজের বড় অংশ এখনও পুরোনো ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাগে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সরকারি প্রকল্প পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় ঠিকাদার মহলে অভিযোগ রয়েছে। নতুনরা বলছেন, শর্ত পূরণ করতে না পারায় অনেক সময় পুরোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও কাগজপত্র ব্যবহার করে কাজ করতে বাধ্য হন এবং সেজন্য কমিশন দিতে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম পূর্বদেশকে বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ, বর্তমান ই-জিপি ব্যবস্থা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০০৮ এমনভাবে কাজ করে যে যারা আগেই বড় প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন, তারাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন।

চট্টগ্রাম জেলা ইউনাইটেড কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান তিতু বলেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অল্প সংখ্যক প্রতিষ্ঠান এই খাতে আধিপত্য ধরে রেখেছে। ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হচ্ছে না বলে তার অভিমত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম আর মঞ্জু পূর্বদেশকে বলেছেন বলে জানানো হয়েছে, সীমিত সময়ের জন্য কিছু শর্ত শিথিল করলে নতুন ঠিকাদাররা বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সমতল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পিপিআর সংশোধনের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত ছোট অঙ্কের প্রকল্পে অভিজ্ঞতা ও টার্নওভারের শর্ত শিথিল করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।

সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই ই-জিপি চালু করা হয়েছিল। তবে নতুন ঠিকাদারদের অভিযোগ, নিয়মকানুনের কাঠামো পরিবর্তন না হলে বাস্তবে প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিতই থাকবে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সূত্র: দৈনিক পূর্বদেশ (৩০ জুলাই ২০২৬), প্রতিবেদক মনিরুল ইসলাম মুন্না।