যে ২০০ মিটারে একবার সোনা জিতেছিলেন, আরেকবার চোটে পড়ে দৌড়ই শেষ করতে পারেননি, এবার সেই ২০০ মিটারেই সোনার হাসি ইমরানুর রহমানের। ১০০ মিটারের সোনা জিতেছেন তো আগেই। ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে দুই স্প্রিন্টে সোনা জিতে ২০২২ সালের পর আবারও একই প্রতিযোগিতায় ডাবলও পূর্ণ করেছেন দেশের দ্রুততম মানব। স্প্রিন্ট ডাবল জিতেছেন শিরিন আক্তারও, সেটিও ২০০ মিটারে নিজের রেকর্ড ভেঙে।
গত শুক্রবার প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে ১০০ মিটারে সোনা জিতেছিলেন ইমরানুর ও শিরিন। আজ জাতীয় স্টেডিয়ামে ২০০ মিটারেও সবার আগে দৌড় শেষ করেছেন দুজন। ইমরানুর সময় নিয়েছেন ২১.১৮ সেকেন্ড। দ্বিতীয় হওয়া শান্ত কর্মকারের সময় ২১.৬৩ সেকেন্ড, আর ২১.৭৭ সেকেন্ড নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন রাকিবুল হাসান।
নারীদের ২০০ মিটারে ২৪.৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের রেকর্ড ভেঙে সোনা জিতেছেন শিরিন আক্তার। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০২৪ সালের জাতীয় অ্যাথলেটিকসে (২৪.৬৮ সেকেন্ড)। ২৫.১১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন শরিফা খাতুন, ২৫.৩৩ সেকেন্ডে তৃতীয় বর্ষা খাতুন।
তবে ইমরানুরের জন্য ২০০ মিটারের এই সোনা শুধু আরেকটি পদক নয়, পুরোনো আক্ষেপ পেছনে ফেলারও উপলক্ষ। ২০২২ সালে ৪৬তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসে ১০০ ও ২০০ মিটার—দুই ইভেন্টেই সোনা জিতেছিলেন। গত বছরও সেই কীর্তি পুনরাবৃত্তির সুযোগ এসেছিল। ১০০ মিটারে সোনা জেতার পর ২০০ মিটারে দৌড় শুরু করতেই পেশিতে টান লাগে তাঁর। ট্র্যাকে পড়ে গিয়ে আর দৌড় শেষ করতে পারেননি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে নেওয়া হয়েছিল নৌবাহিনীর হাসপাতালে। সেবার পুরুষদের ২০০ মিটারে ২১.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছিলেন সেনাবাহিনীর তারেক রহমান।

গত মে মাসে ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসেও ২০০ মিটারে নামা হয়নি ইমরানুরের। মায়ের অসুস্থতার কারণে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এই ইভেন্ট থেকে। সব মিলিয়ে এবার ২০০ মিটারে সোনা জয়ের আনন্দটা তাঁর কাছে একটু বেশিই।
তবে এবার মূলত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই ২০০ মিটারে দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইমরানুর। নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসলে এই ইভেন্টে আমি অংশ নিয়েছিলাম মূলত ট্রেনিংয়ের অংশ হিসেবে, জিনিসটা কেমন হয় তা দেখতে। ক্যাজুয়াল ও মজার ছলেই আমি এটি চেষ্টা করেছি। ফলাফল যেমন হয়েছে, তাতে আমি আলহামদুলিল্লাহ বেশ সন্তুষ্ট। সামনে আরও ভালো ট্রেনিং নিয়ে আরও ভালো করার ইচ্ছা আছে, ইনশা আল্লাহ।’
২০০ মিটারে ০.০৩ সেকেন্ডের জন্য জাতীয় রেকর্ড ভাঙতে না পারার আক্ষেপ অবশ্য রয়ে গেছে তাঁর। তবে রেকর্ডের চেয়ে নিজের সেরাটা দেওয়া এবং দলের জন্য পদক জেতাই ছিল মূল লক্ষ্য, ‘আসলে আমি রেকর্ড করার জন্য দৌড়াইনি, শুধু নিজের সেরাটা দিয়ে রেস শেষ করতে চেয়েছি এবং দলের জন্য একটি মেডেল আনতে চেয়েছি। রেকর্ডটির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম, ভবিষ্যতে এটি ভেঙে ফেলা অবশ্যই সম্ভব।’
দুই ইভেন্টে সোনা জিতে উচ্ছ্বসিত ইমরানুর কৃতজ্ঞ নিজের দল নৌবাহিনী ও দেশের মানুষের প্রতিও। তাঁর কথায়, ‘এটা দ্বিগুণ আনন্দের! অনুভূতি দারুণ। আলহামদুলিল্লাহ, আমার নেভি টিম এবং বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে আমি অসাধারণ সমর্থন পেয়েছি। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। সবাই আমার এই যাত্রায় সব সময় পাশে আছেন এবং সামনেও থাকবেন আশা করি।’
ঘরোয়া ট্র্যাকে সাফল্যের পর এবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চোখ ইমরানুরের। জানুয়ারিতে ঘরোয়া জাতীয় প্রতিযোগিতার পর এপ্রিলে দক্ষিণ এশীয় গেমস। সেখানে বাংলাদেশের হয়ে সোনা জেতাই তাঁর বড় লক্ষ্য, ‘আমরা সবাই মিলে এসএ গেমসের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি এবং ইনশা আল্লাহ আমরা একসঙ্গে দারুণ কিছু করব।’







