ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বছরের ২ জুলাই হত্যার হুমকি দিয়ে নোয়াখালীতে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে উড়ো চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহরণ করা হয়েছিল ওই দম্পতির ছেলে আমির হোসেন অয়নকেও। তাই এই হত্যাকাণ্ড পূর্ব পরিকল্পিত বলে দাবি করছে নিহতদের পরিবার।

আজ শনিবার সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের নিহত কামাল ও ৯নং ওয়ার্ডে কামালের স্ত্রী আরজুর বাসায় গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

কামালের বাবা মোহাম্মদ সিরাজ দাবি করেন, ‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এর আগে একটি অজ্ঞাতনামা চিঠির মাধ্যমে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’ সে সময় বিষয়টি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

সিরাজে জানান, চিঠিতে লেখা ছিল, —‘আসসালামু আলাইকুম জনাব সিরাজ মিয়া। আশা করি ভাল আছেন। খুব শিঘ্রই রাতে আপনার সঙ্গে আপনার ঘরে দেখা হবে। আর আমরা আসলে যদি আমাদের চাহিদা মতো স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পয়সা না পাই, আপনার ছেলেকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিব।’

‘সিরাজ মিয়া কথাটা যাতে মাথায় থাকে। খুব শিঘ্রই তোমার বাড়িতে আমরা আসতেছি। দেখা হবে সময় মতো রাতে। যদি সিরাজ মিয়া তোমার ছেলে, নাতি এবং বউয়ের ইজ্জত বাঁচাতে চাও, তাহলে টাকা পয়সা গহনা সব আমাদের চাহিদা মতো রাখ, যাতে আমরা খালি হাতে ফিরে না যাই। আমরা জানি, তোমার ঘরে প্রচুর পরিমাণে গহনা আছে। আর যদি সব কিছু ঠিকঠাক না পাই তোমার ছেলে এবং নাতিকে দুনিয়া ছাড়া করব এবং তোমার ছেলের বউকে আমরা সবাই মিলে গণধর্ষণ করব তোমার সামনে, কথাটা যেন মনে থাকে সিরাজ মিয়া। আসসালামু আলাইকুম। ইতি, তোমাদের স্নেহধন্য, লাল শাহ্ ডাকাত (লাল বাহিনীর প্রধান)।’

নাতি অয়নকে অপহরণ করা হয়েছিল দাবি করে সিরাজ আরও বলেন, ‘গত বছর দেশে আসার পর এ চিঠি পেয়ে ও আমার নাতিকে অপহরণ করার ঘটনায় আমরা অনেকটা ভীত হয়ে পড়ি। পরবর্তীতে আমার ছেলে কামাল ও তার পরিবারের সবাইকে বসুরহাটে একটি ভাড়া বাসায় রাখা হয়। সেখানে কয়েক মাস থাকার পর তারা ইতালিতে ফিরে যায়।’ এ হত্যাকাণ্ডে এলাকার পূর্ব পরিচিত লোক জড়িত বলে সন্দেহ করছেন তিনি।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৪০), তাঁর স্ত্রী আরজু বেগম (৩৮) এবং তাদের আটক বছর বয়সী মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশার মৃতদেহ উদ্ধার করে সেই দেশটির পুলিশ। দম্পতির বড় ছেলে আমির হোসেন অয়নকে (২০) আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রোমের জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনের মরদেহ বর্তমানে রোমের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে রোম পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (স্কোয়াড্রা মোবাইল) ও ফরেনসিক দল তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা নয়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হামলাকারী পরিবারের পরিচিত কেউ হতে পারে। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।