ফরাসি সরকার চলমান তীব্র তাপদাহ মোকাবিলায় দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘চরম তাপদাহ ওআরএসইসি’ জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির যেসব অঞ্চলে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, সেখানে শুক্রবার (১০ জুলাই) থেকেই এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। খবর আনাদোলুর।

শুক্রবার সকালে ফরাসি সরকারের মুখপাত্র মোদ ব্রেজিওন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএফ১-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “রেড অ্যালার্ট সতর্কবার্তার আওতায় থাকা সব অঞ্চলে আজ থেকেই এই জরুরি পরিকল্পনা চালু করা হচ্ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা নাগরিকদের সুরক্ষায় আমরা জরুরি শীতলীকরণ কেন্দ্রগুলো খুলে দেব।”

গত ২ জুলাই উন্মোচন করা এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো, চরম তাপদাহের সময়ে সব সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।

নাগরিক সুরক্ষার এই নতুন ব্যবস্থাটি তৈরি করা হয়েছে ব্যতিক্রমী উচ্চ তাপমাত্রার সময়ে অতিরিক্ত সম্পদ ও জনবলকে কাজে লাগানোর জন্য। এর মধ্যে একাকী বা বিচ্ছিন্ন থাকা মানুষদের খুঁজে বের করা এবং তাদের সাহায্য করার পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর মেটিও-ফ্রান্স-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর থেকে পশ্চিম ফ্রান্সের নয়টি অঞ্চলকে চরম তাপদাহের ‘রেড অ্যাল্যার্ট’ সতর্কবার্তার আওতায় রাখা হবে। এছাড়া দেশটির আরো ৭২টি অঞ্চলে ‘অরেঞ্জ’ সতর্কবার্তা বহাল রয়েছে।  

মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, গত ৪ জুলাই থেকে ফ্রান্সে যে তাপদাহ শুরু হয়েছে তা অন্তত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং রবিবার (১২ জুলাই) তাপমাত্রা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টানা তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ফ্রান্সে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে দাবানল। সরকারি হিসাব মতে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ৯ হাজার ৯২১ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।

দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির কারণে আগামী ১৪ জুলাই অনুষ্ঠেয় ফ্রান্সের জাতীয় দিবস ‘বাস্তিল দিবস’-এর বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী আতশবাজি প্রদর্শনী বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে হেরল্ট ও ভেন্দে অঞ্চলে সব ধরনের আতশবাজি উৎসবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।