বই পড়ুয়াদের সংগঠন ‘অআকখ’ বিভিন্ন সময়ে বইপড়া ও সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংসদ ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ১ আগস্ট বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্নারে সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বইপড়া কর্মসূচির সূচনা হয়।

আল মাহমুদ কর্নারে আয়োজিত বইপড়া ও সাহিত্য আড্ডায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

আড্ডায় মূলত সাহিত্য নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীর ভাবনা, পাঠ এবং প্রতিক্রিয়া শোনা হয়। সাধারণ পাঠকেরা কী ভাবছেন, কী পড়ছেন এবং সাহিত্য নিয়ে কী করতে চান; সেসব উঠে আসে। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রুমি আমাদের যে শিক্ষা দেয়, নজরুলও তাই। সাহিত্য আমাদের শুধু মনের কথা বলে না, মনের দরজাও খুলে দেয়।’

book

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহি বলেন, ‘আমাদের ক্লাব চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে পাঠচক্র আয়োজনের। এর মধ্য দিয়ে আমরা চিন্তার আদান প্রদান করতে পারছি। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের বইপড়া নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেন। আলীয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাহিত্য পাঠে তাদের সীমাবদ্ধতার কথাও বলেন।

অপরদিকে উৎসবমুখর পরিবেশে ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় বইপড়া কর্মসূচির সূচনা হয়। ৪ আগস্ট ‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’ স্লোগানে বইপড়া কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ। তিনি শিক্ষার্থীদের বইপড়ার উপকারিতা এবং নতুন নতুন স্বপ্নের কথা বলেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নে বই কীভাবে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে সে বিষয়েও বিভিন্ন পরামর্শ দেন তিনি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু তালেব আয়োজনের চিত্র তুলে ধরেন শিক্ষার্থীদের মাঝে। তাদের কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থীরা বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কেননা ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত হবে বইপড়া কর্মসূচি। খুঁজে বের করা হবে সেরা পাঠকদের। বইপড়া প্রতিযোগীর জন্য থাকবে পুরষ্কার ও সনদ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হবে সাহিত্য আড্ডা। উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে আয়োজিত হবে কর্মসূচি।

book

এমনকি জেলা পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অধীনে ৭টি বিশেষ উপ-কমিটি গঠন করা হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসন বিশ্বাস করে, একটি আলোকিত সমাজ গঠনে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পাঠক সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ে থাকবে অআকখ।

অআকখ-এর সংগঠক শেখ ফাতিমা পাপিয়া বলেন, ‘সাহিত্যের কাজ সম্পর্ক তৈরি করা, আমরা আমাদের বন্ধুত্ব আরও দৃঢ় করবো বইপড়ার মাধ্যমে। সবাই মিলে সাহিত্য নিয়ে কাজ করে এগিয়ে যাবো।’

অআকখ-এর নির্বাহী সাগর মল্লিক বলেন, ‘পৃথিবী নির্মাণ হয় গল্পের মাধ্যমে, ভালো গল্প দিয়ে সবাই মিলে ভালো পৃথিবী নির্মাণ করতে চাই। এর জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগের চেয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ বেশি প্রয়োজন। যদি সবাই মিলে একসাথে কাজ করি, তবে বড় কিছু করা সম্ভব। সাহিত্যে বিপ্লব হওয়া সম্ভব।’

এসইউ