ঘাটতি পোষাতে জ্বালানি খাতকে বেসরকারীকরণের পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন।

জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের এই শীর্ষ সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রমকে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। দেশের স্পর্শকাতর এই খাতকে বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অনুষ্ঠিত ফেডারেশনের এক জরুরি সভায় শ্রমিকনেতারা এসব কথা বলেন।

ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কায়ছার হামিদ বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সরকারের মধ্যেই ঘাপটি মেরে থাকা মুখোশধারী ও সুবিধাবাদী কিছু কর্মকর্তা বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটি হলে দেশের মানুষ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে।

কায়ছার হামিদ অভিযোগ করেন, ‘ইতিপূর্বে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়ার পর নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এবার পরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আমরা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হব।’

এ সময় ইস্টার্ন রিফাইনারির সিবিএ সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানটির এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান, পদ্মা অয়েল কোম্পানি সিবিএ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক হামিদুর রহমান, যমুনা সিবিএ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির, পদ্মা সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সাহাদাত হোসেন, এলপিজির সিবিএ সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তবিরুল ইসলাম, পদ্মা সিবিএ অর্থ সম্পাদক ইয়াহিয়া আহাদ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ তৈরিতে সম্ভাব্যতা যাচাই ও পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই সিদ্ধান্তে জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীরা বিস্মিত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।