রাজধানীর সঙ্গে মুন্সিগঞ্জ জেলায় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম কুন্ডের বাজার বেইলি ব্রিজ। এটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করা হয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২৯ বছর। দীর্ঘ এ সময়ে জোড়া তালি দিয়ে সেতুটি অন্তত ৪১ বার মেরামত করেছে কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, এখানে দুই লেনের পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় তিন বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।

শুক্রবার (২৬ জুন) সরেজমিনে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ বেইলি সেতুতে উঠতে গিয়ে আটকে পড়ে পণ্য বোঝাই ট্রাক। পাশ দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে মোটরসাইকেলসহ কয়েকজন যাত্রীও আটকা পড়েছে।

এ পথে নিয়মিত যাতায়াতকারী যানবাহন চালক ও যাত্রীরা জানান, প্রায়ই এমন অচল অবস্থা সৃষ্টি হয় মুন্সিগঞ্জের কুন্ডের বাজার সেতুর উপরে। এতে উভয় প্রান্তে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। ফলে বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয় অনেকের।

ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজে দুর্ভোগ, ৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি নতুন প্রকল্প

সদর উপজেলার সিপাহীপাড়া এলাকা থেকে গর্ভবতী এক নারীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানী ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ভুক্তভোগী যাত্রী মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমার স্ত্রীর প্রসব ব্যথা উঠেছে বাচ্চা হবে, স্থানীয় চিকিৎসক বলেছেন দ্রুত ঢাকা নিয়ে যেতে। কিন্তু সিপাহীপাড়া থেকে কুন্ডের বাজার এসে আটকে ছিলাম প্রায় আধাঘন্টা। পুলিশ বলছে, সেতু বন্ধ যাওয়া যাবে না, তাই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আবার ঘুরে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছি। কি বলবো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’ প্রতিনিয়তই এমন পরিস্থিতি হলেও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর বনানী থেকে মুন্সিগঞ্জ সদরের উদ্দেশ্যে আসা ভুক্তভোগী যাত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘প্রাইভেট কারে বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রায় ২ ঘণ্টা কুন্ডের বাজার ব্রিজের ঢালে বসে ছিলাম। পরে ব্রিজ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে মাওয়া দিয়ে ঘুরে যেতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত সময় অপচয় হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তুলনায় বেশি ভাড়া লাগছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ কেন প্রশস্ত করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, তা কোনোভাবেই বোধগম্য হচ্ছে না।’

সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, বিগত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রায় ৮৪ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয় দুই লেনের ১৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য। অর্থ বরাদ্দ পেয়ে নতুন সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ওই বছরের নভেম্বরের ৭ তারিখে। এরপর কেটে যাচ্ছে প্রায় তিন বছর।

ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজে দুর্ভোগ, ৩ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি নতুন প্রকল্প

অভিযোগ উঠেছে, মুন্সিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উদাসীনতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না নতুন পাকা সড়ক ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্টরা।

মুন্সিগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের টি-আই (প্রশাসন) মো. সাখোয়াত হোসেন বলেন, ‘সকালে ও রাতে দুই বেলায় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য প্রতিদিন যানজট নিরসনে দায়িত্ব পালন করেন কুন্ডের বাজার সেতুর দুই প্রান্তে। তবুও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সংশ্লিষ্টদের উচিৎ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দ্রুত প্রশস্ত পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা ‘

কেন সেতুটির নির্মাণ কাজ স্থবির হয়ে আছে, সেটি নিয়ে সংসদ অধিবেশনেও প্রশ্ন তুলেছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘দ্রুত সমস্যা সমাধানে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্বারস্থ হলেও মিলছে না কোন আশানরূপ সাড়া। কুন্ডের বাজার এলাকায় দ্রুত প্রশস্ত পাকা সেতু নির্মাণের জন্য বর্তমান সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুন্ডেরবাজার ব্রিজটি হয়ে গেলে টঙ্গীবাড়িসহ অন্যান্য উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন হবে। যাতায়াত এবং মালামাল পরিবহন সহজ হবে। সেতুটি হয়ে গেলে জেলার টঙ্গীবাড়িসহ লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাতসহ স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

শুভ ঘোষ /এএইচ/এমএস