জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল তরুণদের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা। সেই চেতনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন
জুলাইয়ের সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘জুলাই কেবল একটি গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়; এটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের সেবা কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের ঋণ পুনঃতফসিল ও ঋণসহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষা ঋণ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের ভাতা বা সম্মানীর ব্যবস্থা এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।’
আরও পড়ুন
দুই বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি আবু সাঈদের জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ প্রকল্প
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন তার বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বক্তব্য দেন।
আজিজুর রহমান/এসআর/জেআইএম








