জিয়া শিশু-কিশোর মেলার সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার বলেছেন, জুলাইকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে। ‌জুলাই ষড়যন্ত্রে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীরা পা দিয়েছেন।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের ভাষানী মিলনায়তনে জিয়া শিশু-কিশোর মেলা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই-আগস্ট গণহত্যার’ স্মরণে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাহাঙ্গীর শিকদার।

তার দাবি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জুলাই আন্দোলন হয়েছে এবং ওই আন্দোলনে শত শত নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন

চিফ প্রসিকিউটর / আয়নাঘরে হাত-মুখ বেঁধে রাখা হতো, আবার অনেককে হত্যাও করা হতো

তাদের ত্যাগের বিনিময়ে জুলাই এসেছে। সেই জুলাইকে বিতর্কিত করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। এ ষড়যন্ত্রে এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীরা পা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে অশালীন ভাষায় কথা বলা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর শিকদার অভিযোগ করেন, জুলাই বিক্রি করে রাজনীতি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাইয়ে যোদ্ধারা প্রাণ দিয়েছেন, সেই স্বপ্ন আজ প্রশ্নের মুখে। তার দাবি, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের কারণে জুলাইয়ের যোদ্ধারা অপমানিত হচ্ছেন এবং দেশের মানুষের কাছে জুলাইয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আগে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী কত টাকা ও সম্পদের মালিক ছিলেন এবং বর্তমানে তাদের সম্পদের পরিমাণ কত-তা খোঁজ নিলেই বেরিয়ে আসবে। তার অভিযোগ, জুলাই বিক্রি করে তারা ধনবান হয়েছেন।

রাজনৈতিক ভাষা প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, গণতন্ত্রের প্রকৃত মান নির্ধারিত হয় জনপরিসরের ভাষা দিয়ে। তার মতে, যে সমাজে রাজনৈতিক ভাষা যত বেশি যুক্তিনির্ভর, শালীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সে সমাজের গণতন্ত্র তত বেশি পরিণত এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি তত বেশি পরিশীলিত।

তিনি বলেন, যারা যুক্তির জায়গায় গালি, চরিত্রহনন, ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণার ভাষা ও নোংরা উক্তি ব্যবহার করছে, মানুষ তাদের চিহ্নিত করছে। সময়ের ব্যবধানে তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়া শিশু-কিশোর মেলা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি কেরামত আলী রাজু। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আমিন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ, তারেক কবির, উমর ফারুক, হাজী সজল, মিন্টু আলম, ওবায়দুল্লাহ মাসুম, বিপুল আহমেদ, মাসুম ফরাজী ও রুকু হক।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জিয়া শিশু-কিশোর মেলা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন।

কেএইচ/এমআরএম