গত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩৯টি। এসব ঘটনায় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫০ জন সাংবাদিক। সবচেয়ে বেশি ঘটেছে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা। পাশাপাশি হামলা, গুলিবর্ষণ, হত্যাচেষ্টা ও মামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
উদ্বেগের বিষয়, মোট ঘটনার ৯১ দশমিক ৪ শতাংশই ঘটেছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে।
শনিবার (১ আগস্ট) মিডিয়া ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট (মিড) প্রকাশিত জুলাই ২০২৬ মাসের সাংবাদিক নির্যাতন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ১৯টি ছিল প্রাণনাশের হুমকির, যা মোট ঘটনার ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে ১১টি (২৮ দশমিক ২ শতাংশ), আইনি হয়রানি বা মামলা হয়েছে ছয়টি (১৫ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং গুলিবর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে তিনটি (৭ দশমিক ৭ শতাংশ)।
মিড বলছে, সাংবাদিকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখতেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। একই সঙ্গে হামলা, মামলা ও সহিংসতার বিভিন্ন কৌশলও প্রয়োগ করা হচ্ছে সমান্তরালভাবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত ৩৯টি ঘটনার মধ্যে ৩২টি ঘটেছে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। রাজধানী ও মহানগর এলাকায় ঘটেছে মাত্র সাতটি। স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
আরও পড়ুন
মামলা বাড়লেও নিষ্পত্তি কম, আপিল বিভাগে বিচারপতি সংকট কাটছে না
এসব নির্যাতনের ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, ভূমিদস্যু, অবৈধ বালু উত্তোলনকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি ও অনিয়ম উন্মোচন, রাজনৈতিক সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিশোধ- এই তিনটি কারণকে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
৩৯টি ঘটনার মধ্যে ১৮টিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও মামলা হয়েছে মাত্র পাঁচটিতে। গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র দুজন অভিযুক্ত। ফলে অধিকাংশ ঘটনায় বিচারিক অগ্রগতি না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিডের নির্বাহী পরিচালক রাশেদুল হাসান বলেন, ‘মফস্বলের সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত হামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হন তারা। তাদের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি/এএসএ








