দেশের সবচেয়ে বড় মাদকের চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এলাকার আশপাশ দিয়েই আসে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, আগে টেকনাফ-কক্সবাজার সীমান্তে আবদুর রহমান বদির নাম শোনা যেত। এখন তিনি নেই, তাই ওই এলাকার দায়িত্ব কারা নিয়েছে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জানার কথা।

আজ শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের দেশের মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে উনার বাড়ির আশেপাশ দিয়ে। কক্সবাজার-টেকনাফ। আগে শুনতাম বদি, এখন তো বদি নাই, বদি তো ভয় পেয়ে গেছে গা। এখন ওখানকার দায়িত্বটা কে নিয়েছে? বাড়ির আশপাশের লোক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তো চেনার কথা। এত দিনে ওই দিক দিয়ে মাদক আসা বন্ধ হওয়া উচিত ছিল। আইন দিয়ে কোনো কিছু হয় না। আইন কার্যকর করতে সাহস লাগে। সৎ সাহস লাগে, ইচ্ছা লাগে।’

উল্লেখ্য, আবদুর রহমান বদি কারাগারে বন্দী আছেন।

নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তাঁর এলাকায় একটি ১০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও সেটি কার্যত পরিত্যক্ত। হাসপাতালের সামনে উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলক থাকলেও সেখানে নেই কোনো চিকিৎসক, রোগী কিংবা দারোয়ান। তাঁর ভাষায়, হাসপাতালটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, আদমশুমারি অনুযায়ী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৬ লাখ মানুষের বসবাস হলেও প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এত বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি মাত্র হাসপাতাল থাকলেও সেটিও কার্যকর না থাকায় মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সেটা না হলে দুর্নীতির চাপে তলিয়ে যাবে সারা জাতি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক সদস্য আমাদের পক্ষ থেকে ওয়াশিং মেশিন দাবি করেছেন। আমি ওয়াশিং মেশিন নাম শুনেছি, কিন্তু দেখিনি, ব্যবহারও করি নাই। সংসদ সদস্যকে বলব, আপনার দরকার হলে স্পিকারের কাছে চান। আমার দরকার নেই। তাই সংসদ দিলেও আমি নেব না। আমি চিনি না, ব্যবহারও করতে পারি না। সংসদ সদস্যদের অভাব যদি ওয়াশিং মেশিন হয়, তাহলে দেশের মানুষের অভাব তো অনেক, সেটার দিকে তাকালে বুঝতে পারবেন, এই বাজেট অর্থবহ, বড় বাজেট নয়।’