কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে আবারও পাহাড় ধসে গেছে। এতে লিমা আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। তার স্বামী জসিম উদ্দিন আহত হয়েছেন। তিনি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর বড় ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের একাংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে লিমা আক্তার ও তার স্বামী জসিম উদ্দিন মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক লিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জসিম হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

প্রতিবেশীদের দাবি, পাহাড়ের নিচে থাকা আরো কয়েকটি ঘর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। সেখানে আরো মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। 

তিনি বলেছেন, “টানা ভারী বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এখনো ভূমিধসের ঝুঁকি আছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।”

এর আগে রবিবার দিবাগত রাতে পাহাড় ধসে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটজন, কক্সবাজার শহরের সাত্তারঘোনা এলাকায় একজন এবং পেকুয়ায় একজনের মৃত্যু হয়। গত দুই দিনে কক্সবাজারে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে ১১ জনের প্রাণহানি ঘটে‌।

কক্সবাজার জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে জাতিসংঘ পরিচালিত বিভিন্ন সংস্থা। পাহাড়ধসে নিহত স্থানীয় প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”