পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাংবাদিক ও শিক্ষক মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেল্লাল হোসেনের বহিষ্কারাদেশ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী ও সদস্যসচিব জাকারিয়া আহমেদ অনুমোদন করেছেন।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের সদর সড়ক এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মোয়াজ্জেম হোসেন নুর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মোয়াজ্জেম হোসেন একটি মোবাইল ফোনের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ওরফে ফাহিম এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন নেতা-কর্মী তাঁকে দোকান থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে রাস্তায় ফেলে তাঁকে মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা তাঁকে আবারও টেনে বাইরে এনে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

গুরুতর আহত অবস্থায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে হামলার ঘটনায় বেল্লাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হলেও উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ওরফে ফাহিমের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবার।

এদিকে এ ঘটনায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব, মহিপুর প্রেসক্লাব, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, কলাপাড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরাম এবং কলাপাড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন পৃথক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনগুলোর নেতারা হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।