কম বয়সে খেলাধুলা, শিক্ষা ও মেন্টরশিপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছে মেটলাইফের নতুন এক বহুজাতিক গবেষণা।
গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজেদের সহনশীল ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম মনে করলেও বাস্তব জীবনের সংকটের মুখে তাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে ৭২ শতাংশ কমে যায়।
মেটলাইফ পরিচালিত ‘দ্য কনফিডেন্ট পাথওয়েজ রিপোর্ট’ শীর্ষক গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও মেক্সিকোতে পরিচালিত হয়। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের আত্মবিশ্বাস কীভাবে গড়ে ওঠে এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তা কীভাবে টিকে থাকে, সে বিষয়ে ধারণা লাভ করা।
এতে উঠে এসেছে, সুযোগ, প্রস্তুতি এবং সহায়ক পরিবেশ মানুষের আত্মবিশ্বাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব উপাদান মানুষকে অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, প্রতিকূলতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
প্রতিবেদনটি সম্পর্কে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে মানুষকে একত্রিত করার পাশাপাশি তরুণদের বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়। তার ভাষায়, খেলাধুলা দলগত কাজ, শৃঙ্খলা ও দৃঢ়তা শেখায়, যা জীবনের নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ হওয়ায় তাদের কম বয়স থেকেই খেলাধুলা, শিক্ষা ও মেন্টরশিপের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে আর্থিক প্রস্তুতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যক্তি ও পরিবারকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে মেটলাইফ বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।
গবেষণায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটও গুরুত্ব পেয়েছে। দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশই তরুণ এবং ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৫ কোটি তরুণ-তরুণী ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে ছোটবেলা থেকেই আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, শৈশবে খেলাধুলায় অংশগ্রহণকারী অর্ধেকের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, এটি তাদের আত্মবিশ্বাস (৫৬ শতাংশ) ও অধ্যবসায় (৫২ শতাংশ) বাড়াতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে অভিভাবকেরাও খেলাধুলা ও মেন্টরশিপ কর্মসূচির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
আর্থিক প্রস্তুতির গুরুত্বও উঠে এসেছে গবেষণায়। যারা সঞ্চয় বা জীবনবিমার মতো আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, তারা বিপর্যয় মোকাবিলায় অন্যদের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি আত্মবিশ্বাসী বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সামাজিক সহায়তার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে। মাত্র ৪১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, তারা বন্ধুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পান। আর নিজেদের কমিউনিটির কাছ থেকে সহায়তা পান বলে মনে করেন মাত্র ৩১ শতাংশ। গবেষণায় তাই আরও শক্তিশালী সামাজিক সংযোগ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মেটলাইফের মতে, খেলাধুলা, শিক্ষা, মেন্টরশিপ, আর্থিক প্রস্তুতি এবং শক্তিশালী সামাজিক সহায়তা—এই পাঁচটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করলে আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
এমএএস/এমকেআর








