গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) গভীর অরণ্যে বিজ্ঞানীরা কমলা রঙের ঠোঁটবিশিষ্ট একটি নতুন বানর প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। কোলোবাস কঙ্গোএনসিস (Colobus congoensis) নামে পরিচিত এই প্রাণীটি গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া পঞ্চম নতুন বানর প্রজাতি।

গবেষকদের মতে, বানরটির কালো লোম, মুখের চারপাশে ফ্যাকাশে রঙের দাগ এবং মুখের নিচের অংশে কমলা আভাযুক্ত ঠোঁট একে অন্যান্য পরিচিত বানর থেকে আলাদা করেছে। এটি ডিআর কঙ্গোর মধ্য-পূর্বাঞ্চলের লোমামি ন্যাশনাল পার্কে বাস করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বহুদিন ধরেই বানরটিকে দেখে আসছিলেন এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে এর নাম দিয়েছিলেন ‘লিকওয়েলি’। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এটি যে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি, তা নিশ্চিত হয়েছে সম্প্রতি। বিষয়টি নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী PLOS One-এ।

সংরক্ষণবিদেরা প্রথম ২০০৮ সালে প্রাণীটির একটি আংশিক ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিই নতুন প্রজাতির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। প্রায় এক দশক পর গবেষক জ্যাঁ পিয়ের কাপালে একটি বিশেষ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বানরটির আরও সাতটি ছবি তোলেন। পরে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অন্তত ১১৪ বার এই প্রাণীটির উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার বিস্তৃত বনাঞ্চলে এর বিচরণ রয়েছে।

গবেষকদের ভাষ্য, বানরটি অত্যন্ত শান্ত ও লাজুক স্বভাবের। ঘন উষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্যের উঁচু ছাউনির নিচে বসবাস করায় স্থানীয় অনেক মানুষও এর সম্পর্কে জানেন না। জরিপে দেখা গেছে, ৫২টি এলাকার মধ্যে মাত্র আটটির বাসিন্দারা প্রাণীটিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন। বালাঙ্গা জনগোষ্ঠী একে ‘লিকওয়েলি’ এবং মিতুকু সম্প্রদায় ‘কাসাবা এনকোনি’, অর্থাৎ ‘ডাল নাড়ানো প্রাণী’ নামে চেনে।

গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, লোমামি অঞ্চলে নতুন নতুন গ্রাম গড়ে ওঠা, বন উজাড় এবং মানুষের বসতি সম্প্রসারণের কারণে এ বিরল প্রজাতির আবাসস্থল দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। তাই অল্পসংখ্যক জনসংখ্যার এ বানরকে দ্রুত বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন তাঁরা। গবেষণার সময় প্রাণীটির গর্জনের মতো ডাকও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে, যা তাদের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মনে করা হচ্ছে।