ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কারাগারে থাকা স্বামীকে ছাড়িয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে (৪৫) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পক্ষে ওই নারীর ধারণ করা একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। তবে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হযরত আলী মণ্ডল (৩৮)। তিনি যুবদলের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রচারও চালাচ্ছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই নারীর স্বামী মারামারির একটি মামলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী আছেন। স্বামীকে কারামুক্ত করার আশ্বাসে হযরত আলী ওই নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন হযরত আলী। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান।
মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান, ফুলবাড়িয়া থানার ওসিভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।আজ শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে ভুক্তভোগী নারী বলেন, স্বামীকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে হযরত আলী নিয়মিত তাঁদের বাড়িতে আসতেন। ঘটনার দিনও তিনি কয়েকবার আসেন। স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। রাজি না হওয়ায় ঘরে ঢুকে তাঁকে জাপটে ধরে বিছানায় ফেলে দেন।
নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আগে থেকেই মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ চালু রেখেছিলেন বলে জানান ওই নারী। তাঁর আশঙ্কা ছিল, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ভিডিওটি প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্বামীকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দাবি করেন ওই নারী। তিনি বলেন, স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে গত সোমবার তাঁর স্বামীর জামিন হয়। অভিযুক্ত হযরত আলীর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। হযরত আলী হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন ওই নারী।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা হযরত আলী আত্মগোপনে আছেন। তাঁর মুঠোফোন সংযোগও বন্ধ। এ কারণে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ফেসবুকে হযরত আলীর একটি ভিডিও দেখেছেন ফুলবাড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ। এ বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








