কাতারের দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাব-গাম্ভীর্যের সাথে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খানের সভাপতিত্বে দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধাসহ কাতার প্রবাসী বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সদস্য, কমিউনিটির সদস্য, রেমিট্যান্সযোদ্ধা, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সদস্য, বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল ও কলেজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন
রোমে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কাতারের দোহা বাংলাদেশ দূতাবাসের দেওয়া এক পোস্টের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী সকলের স্বাভাবিক ও সুস্থজীবন এবং দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী,পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়াও মহান জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পাঠানো ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। কাতারস্থ নর্থওয়েষ্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাসান মাহমুদ মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি ও গুরুত্ব আরোপ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এরপর মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই শহীদ দিবসের তাৎপর্যের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকালে বক্তারা তাদের বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কালীন সকল শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মত্যাগ সম্মানের সহিত স্মরণ করে একটি বৈষম্যমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গঠনে সকলে এক সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হযরত আলী খান তার বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন জুলাই অভ্যুত্থানে সংগঠিত গণহত্যা বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য আলোচনাকালে হাজারো শহীদের রক্তে বিনিময়ে জাতির সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় ঐক্যে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহিদদের আকাঙ্ক্ষাপূরণ ও তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণ করে সকলকে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে উৎসাহিত করেন। তিনি জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বৈষম্যহীন, ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
এমইউ/এমআরএম







