সাত দিনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আজ চতুর্থ দিন। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজা গতকাল রবিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে সম্পন্ন হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় অংশ নিতে গোটা এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। লাখো শোকাহত মানুষ ধর্মীয় বাণী আওড়ে এবং বুক চাপড়ে এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।এ দিকে খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোয় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান।গতকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তিন ধাপে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী। আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য নামাজ আদায় করা হয়।তাঁর পরিবারের সদস্য সাইয়্যেদে বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেসবাহ আল-হোদা বাকেরি এবং জাহরা হাদ্দাদ আদেলের জানাজা হয়। তাঁর নাতনি জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।জানাজায় খামেনির তিন ছেলে—মোস্তফা খামেনি, মাসউদ খামেনি ও মেইসাম খামেনি অংশ নিলেও, জীবননাশের হুমকির কারণে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আরেক ছেলে মোজতবা খামেনি সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না।জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো মোসাল্লা ও এর চারপাশের এলাকা ড্রোন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং হেলিকপ্টার দিয়ে নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। জানাজায় উপস্থিত শোকাহত জনতা ব্যাপকভাবে লাল ব্যানার ও 'ইয়া লাথারাত আল-খামেনি' (হে খামেনির প্রতিশোধকগণ) স্লোগানসংবলিত লাল পতাকা প্রদর্শন করেন, যা শিয়া রীতিতে রক্তের প্রতিশোধের প্রতীক। একই সাথে উপস্থিত জনতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে স্লোগান দেন।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, এই রাষ্ট্রীয় শোকে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, "আমি শহীদ নেতাকে বিদায় জানাইনি এবং কখনোই জানাব না।"অন্য দিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের এই কান্নায় বিস্ময় প্রকাশ করে একে 'মায়াকান্না' বলে অভিহিত করেছেন।খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরান মেট্রোতে রেকর্ড ৭০ লাখের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছে। এ দিকে চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নতুন সার্ভিস ফি আরোপ করা হবে। তবে সংকটের সময়ে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে।খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোয় ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সংহতি ও গভীর শোক পুনর্ব্যক্ত করেন।আগামী মঙ্গলবার খামেনির কফিন কোম নগরীতে এবং বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে নেওয়া হবে। সবশেষে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদ শহরে মরদেহ দাফন করা হবে।
রাজনীতি
কঠোর নিরাপত্তায় খামেনির প্রথম জানাজা

শেয়ার করুন







