টানা তাপপ্রবাহের পর আষাঢ়ের শেষে বর্ষা তার নিজরূপে ফিরেছে। দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক স্থানে বৃষ্টি ২০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। আজ বুধবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে এবং পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসেরও আশঙ্কা আছে। রাজধানীতে বেশি বৃষ্টি না–ও হতে পারে, তবে সারা দিনই আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে আগামী শুক্রবার থেকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত) দেশের একাধিক স্থানে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ২৮৭, চট্টগ্রামে ২৮৪, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এ ছাড়া ময়মনসিংহ ১৫১ ও হাতিয়ায় ১৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয় এ সময়। রাজধানীতে এ সময় ৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারী বৃষ্টি বলে গণ্য হয়। আর এর চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলে তা অতি ভারী বৃষ্টি ধরা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আজও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ বিভাগগুলোর কোনো কোনো স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি আজও থাকতে পারে।
এবারের বৃষ্টির কারণ সাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ। এ নিম্নচাপ এখন ভারতের মধ্যপ্রদেশের দিকে চলে গেছে। কিন্তু এর প্রভাবে এ বৃষ্টি। আর বৃষ্টি বাড়তে পারে আগামী শুক্র ও শনিবার।
আজ সকাল থেকেই রাজধানীতে ছিপছিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ মেঘলা। দিনভর আকাশ মেঘলাই থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া। তিনি বলেন, আজ ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। তবে একটানা হবে না। আগামীকালও এ অবস্থা থাকতে পারে। শুক্রবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে।
এদিকে নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে দেখানো ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত আজও বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন আবদুল হামিদ মিয়া।






