গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় কৃষক লীগের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসানকে কোনাবাড়ী থানা থেকে প্রত্যাহার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।

রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে তাকে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই এ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, গত ৪ জুলাই ‘আটক কৃষক লীগ নেতাকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে রাইজিংবিডিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে জিএমপি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাতে কোনাবাড়ীর প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে আটক করেন এসআই কামরুল হাসান। পরে তার পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপরের দিন থেকেই মতিন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় নতুন করে আরেকটি অভিযোগ সামনে আসে। মতিন মিয়ার অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে নূর মোহাম্মদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মতিন মিয়ার ভাই মো. আলম তার দোকানে গিয়ে গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

ঘটনার বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু নাসের মো. আল আমিন বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়ায় এসআই কামরুল হাসানকে কোনাবাড়ী থানা থেকে প্রত্যাহার করে জিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বিভাগীয় ও আইনগত বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।