নেত্রকোনার কলমাকান্দায় হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তার তালিকায় এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শনিবার (৪ জুলাই) পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের মো. নুরে আলমসহ ২৪ জন সই করা অভিযোগে বলা হয়, পোগলা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলম ও নূর খান প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে নিজেদের পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকার কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার, বীজ ও বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রণোদনা দিয়ে এলেও তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সহায়তা বিতরণের তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, গত ১৭ জুন হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সহায়তা একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। এতে প্রত্যেককে ছয় হাজার টাকা নগদ ও ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। ওই তালিকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের নাম রয়েছে। তিনি তালিকায় স্বামীর নামের পরিবর্তে বাবার নাম আবু সিদ্দিক ব্যবহার করেছেন। শাহিনুর আলমের বড় ভাই রফিকুল আলমের স্ত্রী তৌহিদা খাতুনসহ তার নিকটাত্মীয় অন্তত ১৫ জনের নামও তালিকায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, ‘শাহিনুর আলম কৃষি প্রণোদনার তালিকায় তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তার কাছ থেকে এমন আচরণ আমরা প্রত্যাশা করি না।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পোগলা ইউনিয়নের তালিকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুর আলমের স্ত্রীর নাম থাকার বিষয়টি জেনেছি। ওই নামটি বাদ দিয়ে সেখানে প্রকৃত একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিনুর আলমকে লেংগুরা ও নূর খানকে বড়খাপন ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। তদন্তে যদি কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যেন সরকারি সহায়তা পান, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম








