জলাবদ্ধতার মধ্যে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের প্রায় এক হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে। পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিরসনে তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা আরও সতর্ক থাকবে।
ওই ঘটনার এক দিন পর মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ। এ সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, ‘কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১৯৩টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জুলাই (সোমবার) অতিবৃষ্টির কারণে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশে বিড়ম্বনার শিকার হন। কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মাণসামগ্রী ও প্রবেশপথে সৃষ্ট গর্তের কারণে একজন পরীক্ষার্থী পানিতে পড়ে যায়। পরে ওই পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শুকনো কাপড় নিয়ে আসেন এবং পরীক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়। জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আরও বলেন, সোমবার সকালে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনকে অবহিত করা হলে তারা গাড়ি, নৌকা ও ভ্যানের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করেও শিক্ষার্থীদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। বোর্ডের চার কর্মকর্তা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সার্বিক তদারকি ও সহযোগিতা করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিলম্বে কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সময় নষ্ট হওয়া পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আধা ঘণ্টা সময়ও দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আহসান পারভেজ আরও বলেন, পরীক্ষার্থীদের সামগ্রিক দুর্ভোগ বিবেচনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো নগরের ছাতিপট্টি এলাকার ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিবর্তিত কেন্দ্র সম্পর্কে পরীক্ষার্থীদের ইতিমধ্যে নোটিশ দিয়ে অবহিত করা হয়েছে।
তবে জলাবদ্ধতার ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু কনটেন্ট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আহসান পারভেজ। তিনি বলেন, সকালের অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কোমলমতি পরীক্ষার্থীরা সাময়িক দুর্ভোগে পড়লেও তা নিরসনে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও শিক্ষা বোর্ড যৌথভাবে কাজ করেছে; কিন্তু একশ্রেণির কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘জাতির বিবেক সাংবাদিকবৃন্দের কাছে বিষয়টির সত্য তথ্য ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাই। একই সঙ্গে গতকালের ঘটনায় দায়িত্বশীল সংবাদ প্রচার করায় আমরা কুমিল্লার গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় কুমিল্লা নগরে ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এই অতি ভারী বৃষ্টিতে পুরো কুমিল্লা নগর অচল হয়ে পড়ে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি তলিয়ে যায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে। এর মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র এলাকায় পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে নাজুক। সোমবার সকালে পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক শিক্ষার্থীকে ভেজা কাপড়েই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়েছে এবং ওই অবস্থাতেই তিন ঘণ্টা পরীক্ষা দিতে হয়েছে।
এ ঘটনার পর মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে কুমিল্লায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত চান তাঁরা। একই সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ক্ষমা না চাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেন তাঁরা।








